আগামীর সময়

ঈদের আগে ত্বকের যত্ন সাতদিন

ঈদের আগে ত্বকের যত্ন সাতদিন

এআই নির্মিত ছবি

চাঁদ রাতে মেহেদি পরার তোড়জোর শুরু হলেও ত্বক, চুল, হাত-পায়ের যত্ন-আত্তি নিতে হয় একটু সময় নিয়েই। শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে কিছু করলে অনেক সময় ত্বকে সমস্যা দেখা দেয় বা কাঙ্ক্ষিত ফলও পাওয়া যায় না। তাই ঈদের অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই ছোট ছোট প্রস্তুতি শুরু করলে ঈদের সকালে সাজ হবে স্নিগ্ধ, সুন্দর।

ঈদের আগের সাতদিনের সহজ পরিকল্পনা মেনে চললে চাঁদ রাতের ব্যস্ততাও কমবে আর ঈদের দিনটাও হয়ে উঠবে ঝলমলে।

প্রথম দিন


প্রথম দিনটি হওয়া উচিত নিজের ত্বকের অবস্থা বোঝার দিন। কারও ত্বক শুষ্ক, কারও তৈলাক্ত, আবার কারও সংবেদনশীল। সেই অনুযায়ী যত্নের পরিকল্পনা করা দরকার। নিয়মিত মুখ পরিষ্কার করা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা- এই তিনটি অভ্যাস শুরু করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় থেকে খুব বেশি মসলা বা তেলযুক্ত খাবার কমিয়ে ফল ও সবজি বাড়ান। এতে ত্বকের উপকার হবে।

দ্বিতীয় দিন


দ্বিতীয় দিনে ত্বক গভীরভাবে পরিষ্কার করার দিকে নজর দেওয়া যেতে পারে। ত্বকে হালকা স্ক্রাবিং করুন। এতে মৃত কোষ দূর হবে এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখাবে। স্ক্রাব খুব বেশি জোরে ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এতে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

এ সময় ত্বকে পুষ্টি জোগাতে ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন। ফল বা দই, মধু, বেসন ইত্যাদি দিয়ে তৈরি ঘরোয়া প্যাক বানিয়ে মুখে মেখে নিন। কিছুক্ষণ রেখে শুকিয়ে টানটান হয়ে এলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। স্ক্রাবের পর হালকা ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বক আরও সতেজ হয়ে উঠবে।

তৃতীয় দিন

ঈদের সাজে চুলের ভূমিকাও কম নয়। তাই তৃতীয় দিনে চুলের যত্ন শুরু করা ভালো। নারকেল তেল, বাদাম তেল বা অলিভ তেল দিয়ে মাথার ত্বকে হালকা মালিশ করলে চুলে পুষ্টি পৌঁছায়। কিছু সময় রেখে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিলে চুল পরিষ্কার ও নরম থাকে। চুলে অতিরিক্ত তাপ ব্যবহার কমানোও জরুরি। এতে চুলের ক্ষতি কম হয়।

চতুর্থ দিন

ঈদের দিনে সুন্দর পোশাকের সঙ্গে পরিচ্ছন্ন হাত-পা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই চতুর্থ দিনে ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করা যেতে পারে। নখ পরিষ্কার করা, সুন্দর আকারে কাটা এবং হাত-পায়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা- এসব ছোট যত্নই সাজকে পরিপাটি করে তোলে। পায়ের গোড়ালি ফাটা থাকলে এ সময় থেকে নিয়মিত ক্রিম ব্যবহার করলে তা অনেকটাই কমে যাবে।

পঞ্চম দিন

ঈদের দুই-তিন দিন আগে ভ্রু ঠিক করা বা অবাঞ্ছিত লোম পরিষ্কার করা ভালো। এতে ত্বক লাল হয়ে থাকলেও ঈদের আগেই তা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কেউ চাইলে মুখে হালকা ম্যাসাজ বা ত্বকের যত্নে বাড়িতে ডেকে বা পার্লারে গিয়ে অন্য কোনো পরিষেবাও নিতে পারেন। তবে নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকবেন, কারণ এতে ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে।

ষষ্ঠ দিন

ঈদের দু-এক দিন আগে আবার চুল ধুয়ে নেওয়া ভালো। এতে চুল পরিষ্কার ও হালকা থাকে এবং ঈদের দিন সাজানোও সহজ হয়। চাইলে প্যাক ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন। একই দিনে পোশাক, গয়না ও সাজের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখতে পারেন। এতে চাঁদরাতের ব্যস্ততা অনেকটাই কমে যাবে।

সপ্তম দিন
চাঁদরাত সাধারণত আনন্দ করার সময়। এদিন হাতে মেহেদি লাগানোর পাশাপাশি ত্বক পরিষ্কার করে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। ঠোঁটেও ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। ঠোঁট দেখাবে নরম ও কোমল। এদিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। না হলে ঈদের দিন ত্বক নিষ্প্রাণ ও ক্লান্ত দেখাতে পারে।

    শেয়ার করুন: