পাঞ্জাবির কাপড় কিনবেন ও বানাবেন যেখানে

ঈদুল ফিতর যত এগিয়ে আসে, ততই বাঙালির মনে তৈরি হয় এক ধরনের উৎসবের আলোড়ন। আর ছেলেদের ক্ষেত্রে ঈদের সকাল মানেই নতুন পাঞ্জাবি। সেই পাঞ্জাবি কেনা নিয়েই চলে নানা রকম ঝক্কি। সাধারণ মানের একটি পাঞ্জাবির দাম অনেক দোকানে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। দেখতেও খুব একটা আলাদা নয়।
একটু বুদ্ধি খাটিয়ে শোরুমের চকচকে আলো এড়িয়ে যদি একবার ঢুঁ মারা যায় কাপড়ের আসল বাজারে, তবে কয়েক হাজার টাকা বেঁচে যায় অনায়াসেই।
কাপড় বাছাই
পাঞ্জাবি বানানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো কাপড় নির্বাচন। ঢাকার ইসলামপুর কিংবা নিউ মার্কেট-এর কাপড়পট্টিতে ঢুকলেই বোঝা যায়, কাপড়ের জগৎ কত বৈচিত্র্যময়। সারি সারি স্তূপ করে রাখা নানা ধরনের কাপড় সুতি, লিনেন, ভয়েল, সিল্ক, আদ্দি, খাঁদি যা চাইবেন সবই আছে। পাঞ্জাবির জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক কাপড় হলো সুতি বা কটন। গরমের দেশে এটি পরতে আরামদায়ক, সহজেই বাতাস চলাচল করে। বাজারে ভারতীয় অরবিন্দ বা গিজা কটন বেশ জনপ্রিয়। ভালো মানের লিনেন গজ প্রতি প্রায় ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আর যারা সাদা পাঞ্জাবির ঐতিহ্য পছন্দ করেন, তাদের জন্য নরসিংদীর বিখ্যাত ‘আদ্দি’ কিংবা জাপানি ভয়েল কাপড়ও নিতে পারেন।
সাধারণত আড়াই হাত বহরের কাপড় হলে দুই গজ চার গিরা কাপড়েই একটি চমৎকার পাঞ্জাবি বানানো যায়। তবে কাপড় কেনার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। বুনন যেন ঘন ও মসৃণ হয় ও হাতের তালুতে ঘষে দেখলে কাপড় যেন নরম লাগে, আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সুতি কাপড় ধোয়ার পর কিছুটা সংকুচিত হয়।
তাই সেলাইয়ের আগে কাপড় অন্তত দুই ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা ভালো।
দর্জি বাড়ি
কাপড় কেনা তো হলো। এবার কাপড় নিযে ছুটতে হবে দর্জি বাড়ি। ঈদের আগে বেড়ে যায় দর্জিদের ব্যস্ততা। তারা ঠিকঠাক মাপ নিয়ে একটা নির্দিষ্ট তারিখও দিয়ে দেবে। ওই তারিখে গিয়ে বেশিরভাগ সময়ই ফিরে আসতে হবে খালি হাতে। কারণ পোশাকটি তারা তৈরি করতে পারেননি। এই চিত্রের সঙ্গে কমবেশি সবাই পরিচিত। এজন্য তাই হাতে সময় নিয়েই দর্জির কাছে যাওয়া উচিত। কেননা নিখুঁত ফিটিংয়ের জন্য দর্জির বিকল্প নেই। ঢাকার এলিফ্যান্ট রোড, মোহাম্মদপুর, সায়েন্স ল্যাব বা মিরপুর-১০ এলাকায় পাঞ্জাবি সেলাইয়ের ভালো কিছু দোকান পাওয়া যায়। মাপ দেওয়ার সময় কয়েকটি বিষয় আগে থেকেই বলে নেওয়া ভালো। পাঞ্জাবির কাট যেন সেমি-ফিটিং হয়। এখনকার ট্রেন্ড হলো ‘সেমি ফিট’ পাঞ্জাবি অতিরিক্ত ঢিলেঢালা নয়, আবার খুব টাইটও নয়। শক্ত বকরম না দিলে কলার দ্রুত নরম হয়ে যায়।
দর্জির কাছে বানানোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি প্রতিটি অংশ নিজের মতো করে তৈরি করাতে পারবেন। হাতার মোহরি কত হবে, পকেট কোথায় থাকবে সবই আপনার সিদ্ধান্ত।
বর্তমান বাজার অনুযায়ী একটি ভালো মানের পাঞ্জাবি সেলাইয়ের মজুরি সাধারণত ৮০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।
কলারে ভালো মানের জার্মান ফিউজিং
নকশায় আভিজাত্য
অনেকে পাঞ্জাবিতে ভারী এমব্রয়ডারি পছন্দ করেন। কিন্তু রুচিশীল মানুষের কাছে হালকা কাজের পাঞ্জাবিই বেশি আকর্ষণীয়। পাঞ্জাবির কলার বা হাতার মাথায় বিপরীত রঙের সুতার চিকন পাইপিন দিলে দারুণ একটা প্রিমিয়াম লুক আসে। বোতামও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ প্লাস্টিক বোতামের বদলে কাঠের বা মেটাল বোতাম ব্যবহার করলে পুরো পাঞ্জাবির চেহারাই বদলে যায়। যারা একটু বেশি সৌখিন, তারা চাইলে সামান্য হাতের কাজ করাতে পারেন।
সদরঘাটের সূচিকর্মের গলিগুলোতে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে সুন্দর নকশা করা সম্ভব। এইভাবে সঠিক কাপড় নির্বাচন এবং দক্ষ দর্জির কাজ মিলিয়ে কম দামেই একটি পাঞ্জাবি তৈরি করা যায়, যা দেখতে অনেক সময় নামি ব্র্যান্ডের দামি পাঞ্জাবিকেও টক্কর দিতে পারে।
সময়ের হিসাব
একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, রমজান যত এগিয়ে যায়, দর্জিদের ব্যস্ততাও তত বাড়তে থাকে। অনেক দোকানে ২০ রমজানের পর বড় করে লেখা থাকে ‘অর্ডার নেওয়া বন্ধ’। তখন আর কাকুতি-মিনতি করেও কাজ হয় না। তাই নিজের মাপের, নিজের পছন্দের পাঞ্জাবি যদি চান, তাহলে কাপড় কেনা এবং সেলাইয়ের কাজটা আগে ভাগেই সেরে ফেলা ভালো।

