রোজায় অ্যাসিডিটি কমানোর সহজ উপায়

ছবি : এআই
সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে হঠাৎ ভারী খাবার খাওয়া, আবার ভোর রাতে সেহেরি- রোজার এক মাসের এই রুটিনে অনেকেরই পেটে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়ে। পেট জ্বালাপোড়া, ঢেঁকুর ওঠা, বুক ভারী লাগা এসব লক্ষণ রোজার সময় অনেকেরই দেখা দেয়। তবে কিছু অভ্যাস মেনে চললে এই অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ইফতার করুন ধীরে
সারাদিন খালি পেটে থাকার পর একসঙ্গে অনেক খাবার খেলে পাকস্থলীতে চাপ পড়ে। এতে হজমে সমস্যা হয় এবং গ্যাস তৈরি হতে পারে। তাই ইফতার শুরু করুন খেজুর ও এক গ্লাস পানি দিয়ে। এরপর হালকা কিছু-যেমন ফল, ছোলা বা সালাদ খেয়ে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। এবার মূল খাবার খেলে পাকস্থলী সহজে মানিয়ে নিতে পারে।
ভাজাপোড়া কম খান
ইফতারের টেবিলে জিলাপি, পেঁয়াজু, বেগুনি, সমুচা, চপ— এসব খাবার প্রায় সবার টেবিলেই থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে গ্যাসের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এসব খাবার একেবারে বাদ না দিলেও পরিমাণ কমিয়ে রাখাই ভালো। এর বদলে সেদ্ধ ছোলা, ফল, দই বা সবজি রাখলে হজমের সমস্যা কম হয়।
দ্রুত খাবেন না
অনেক সময় খুব ক্ষুধার কারণে আমরা দ্রুত খাবার খেয়ে ফেলি। এতে খাবারের সঙ্গে বেশি বাতাস ঢুকে যায়, যা পরে গ্যাসের কারণ হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস রাখলে হজম সহজ হয়।
ইফতারের পরই শুয়ে পড়বেন না
সারাদিন নানা কাজের ঝক্কি সামলে ইফতারের পর অনেকেই ক্লান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়েন। এতে পাকস্থলীর অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে আসে, ফলে বুক জ্বালা বাড়ে। খাবারের পর অন্তত আধাঘণ্টা সোজা হয়ে বসে থাকা বা হালকা হাঁটাহাঁটি করা ভালো।
পানি পান
ইফতারের সময় একসঙ্গে অনেক পানি পান করলে পাকস্থলীতে চাপ পড়ে। আবার একেবারেই কম পানি খেলেও হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত সময়টায় অল্প অল্প করে কয়েকবার পানি পান করা ভালো।
সাহেরিতে সহজপাচ্য খাবার
সাহরির সময় অতিরিক্ত তেল-মসলা বা ভারী খাবার খেলে সারাদিন পেটে অস্বস্তি হতে পারে। তাই এ সময় ভাত, ডাল, সবজি, ডিম বা দইয়ের মতো সহজপাচ্য খাবার রাখুন। এতে দীর্ঘ সময় পেট আরামে থাকবে।
চা-কফি এড়িয়ে চলুন
ইফতারের পর অনেকেই কয়েক কাপ চা বা কফি কিংবা কোমলপানীয় পান করেন। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন পাকস্থলীতে অ্যাসিড তৈরি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই চা-কফির পরিমাণ কমিয়ে হারবাল পানীয় বা লেবু-পানি খাওয়া ভালো।
ধূমপান এড়িয়ে চলুন
কেউ কেউ ইফতারের পর ধূমপান করেন। এগুলো পাকস্থলীতে গ্যাস বাড়ানোর অন্যতম কারণ। তাই এই অভ্যাসগুলো কমিয়ে আনা দরকার।
সময় মেনে চলুন
রোজায় খাবারের নির্দিষ্ট সময় থাকলেও অনেক সময় ইফতার বা সাহরিতে অনিয়ম হয়ে যায়। খুব দেরিতে খাওয়া বা খাবার বাদ দেওয়া পেটের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই নিয়মিত সময় মেনে খাওয়ার চেষ্টা করা করুন।

