বসন্তের হঠাৎ বৃষ্টি, সুস্থ থাকার উপায়

শীত নয়, আবার গরমও আসতে কিছুটা দেরি এখনও। ঝরা পাতার সাথে ঝরে পড়ছে কয়েক পশলা বৃষ্টিও। সঙ্গে দমকা বাতাস। এমন সময়ে সর্দি, কাশি, জ্বর এবং আরও নানান ফ্লু জনিত রোগের প্রবণতা দেখতে পাওয়া যায়। ঋতু ভিত্তিক অসুস্থতা আর অন্যান্য বিড়ম্বনা এড়িয়ে কীকরে ফুরফুরে থাকা যায়, চলুন জেনে নেওয়া যাক আজকে।
১. গোসল করা না করা
যদি এ দিন গোসল করতে ইচ্ছা না করে তাহলে নিজেকে জোর করবেন না। ঠান্ডা বাতাসের মধ্যে বৃষ্টিতে গোসল করলে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর যদি বাইরে থেকে এসে কিংবা শারীরিক ব্যায়ামের পর গোসল করতেই হয়, তবে অবশ্যই ইষদোষ্ণ জলে গোসল করুন। তবে মাথায় বেশি ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার না করাই ভাল। ঠান্ডা লাগার ধাত থাকলে, বা লম্বা চুল থাকলে মাথা ভেজানো ইয়ড়িয়ে চলাই ভালো এই সময়ে।
২. পোশাকে মনোযোগ
এ রকম আর্দ্র দিনে সারাদিনই প্রায় ঠান্ডা হাওয়া বইতে থাকে। বৃষ্টিপাতের সময়ে শীত বাড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই অবশ্যই কিছুটা গরম অথবা অন্য দিনের তূলনায় কিছুটা হেভি জামা-কাপড় পরে বাইরে বের হওয়া উচিত, বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে আপনি যদি এয়ার-কন্ডিশনে বসে কাজ করে থাকেন। অটো বা বাসে জানালার ধারে বসলে মাথা, গলা ভাল করে ঢেকে বসা উচিত। কারণ এই আর্দ্র হাওয়ায় কিন্তু ঠান্ডা লেগে যায়। তা থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ হয় শরীরে।
৩. বৃষ্টিতে ভিজে গেলে
সময়ে কোথাও না পৌঁছানোর হলে বৃষ্টি না থামা পর্যন্ত বাড়ি থেকে বের না হওয়াই ভাল। যদি মাঝ রাস্তায় বৃষ্টি শুরু হয় তাহলে শেডের তলায় গিয়ে দাঁড়িয়ে যান। হাজার ব্যস্ততা থাকলেও বৃষ্টিতে ভিজবেন না। শরীর বাঁচানো গেলেও রাস্তায় জমা হওয়া ময়লা পানিতে পা ভিজে যেতে পারে। এ থেকে পা বাঁচাতে পরা যায় পানিরোধক বুট। আর যদি পা ভিজেই যায়, তাহলে গন্তব্যে পৌঁছেই পা ভাল করে ধুয়ে মুছে নেওয়া উচিত। সুযোগ থাকলে হালকা গরম পানিতে পা ধুয়ে নেওয়া যায়।
যদি বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি থেকে বের হতে হলে ব্যাগে ছাতার সঙ্গে একটি তোয়ালে রাখা ভলো।
৪. জুতা বাছাই
এ রকম দিনে অবশ্যই পা ঢাকা, সংক্রমনরোধি জু্তা বাছাই করা উচিত। এতে ঠান্ডায় যেমন আরাম পাওয়া যাবে, তেমনই সংক্রমণের হাত থেকেও রক্ষা পাবেন। বৃষ্টির পানি পায়ে লাগলে ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। মোজা পরতে পারলে পা সুরক্ষিত থাকবে।
তবে যদি জমা জলে একান্তই হাঁটতে হয় মোজা অবশ্যই খুলে নিতে হবে। ভেজা মোজা পায়ে থাকলে শরীর খারাপ হবে। কোনো সমস্যা না থাকলে সুতি বা উলের মোজার পরিবর্তে ব্যবহার করা যায় হালকা ওজনের সিলিকনের মোজা।
৫. হাতের সুরক্ষা
সংক্রমণ দূরে রাখার প্রাথমিক শর্ত হলো হাত পরিষ্কার রাখা। এই সব দিনে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপ বাড়ে। হাত থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়ায়। তাই হাত সব সময় পরিষ্কার রাখুন। ব্যাগে লিকুইড সোপ, টিস্যু, স্যানিটাইজার রাখা ভালো, যাতে করে দরজার কিংবা গাড়ির হাতল, বাজারের পলিথিন, টাকা ইত্যাদিতে হাত দিয়ে সহজেই এগুলো ব্যবহার করা যায়।
৬. মুখের জন্য আলাদা রুমাল
এই সব দিনে অবশ্যই সঙ্গে ব্যক্তিগত রুমাল রাখা উচিত। মুখ বেশি ভিজলে অনেক সময় খালি টিস্যুতে কাজ দেয় না। তাছাড়া মুখ, চোখ, নাকের মাধ্যমে ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। তাই যতটা সম্ভব মুখে হাত দেওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। নাক, মুখ মুছতে হলে, কিংবা চোখ চুলকাতে হলে এই সময়ে ব্যক্তিগত রুমাল ব্যবহার করাই উত্তম। ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে মুখে ভাল মাস্ক পরে রাখা উচিত।
৭. বাইরের খাবার
শীত, বৃষ্টিতে ঘুম ঘুম পায়, মুড অফ লাগে, অবসাদ আসে। এমন সময় মনের মতো যা খুশি চটপটা খেতে ইচ্ছা করে। গলায় উষ্ণতা পেতে টঙ্গের চায়ের কাপে চুমুক দিতে মন চায়। তবে ইচ্ছা হলেই বাইরের খাবার খেয়ে ফেলা উচিত নয়।
বিশেষ করে ইফতারের সময় বাইরের ভাজাভুজি, তেলযুক্ত খাবার একেবারেই খাবেন না। প্রয়োজনে বাড়ি থেকে খাবার প্যাক করে নিয়ে বের হওয়া ভাল। অপরিচ্ছন্ন বাইরের পানি থেকে, খাবার থেকে পেট খারাপ, জ্বরের সম্ভাবনা আরও প্রবল হতে পারে।
চা কিংবা পানি পান করতে হলে লক্ষ করতে হবে যে, কাপ ভালো করে পরিষ্কার করা হয়েছে কিনা।
৮. অভ্যন্তরীণ সুরক্ষায় ভেষজ টনিক
এমন দিনে সব থেকে ভাল হার্বাল চা পান করা। এ ছাড়াও লবঙ্গ, দারুচিনি, তুলসি, গোলমরিচ, আদা দিয়ে পানিতে ফূটিয়েও চায়ের মতো করে পান করা যেতে পারে। এতে কর যেমন শরীর ভাল থাকবে, এনার্জিও হবেআ। উপশম পাওয়া যাবে ফ্লু সংক্রমণ থেকেও। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল, যেমন কমলা, লেবু, আমলকী, আনারসের মতো ফল খাবারের তালিকায় রাখা ভাল এই সময়ে। এতে করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং প্রতিকারেও সাহায্য করে।

