বজ্রপাতে মারা যাওয়া লাশ চুরি কেন হয়?

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বজ্রপাত একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক ঘটনা, যা পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় ঘটতে পারে। বাংলাদেশেও প্রায়ই বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর শোনা যায়।
কোনো ব্যক্তির ওপর বজ্রপাত হলে তার শরীরের ভেতর দিয়ে তীব্র বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। এতে স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি মস্তিষ্কে আঘাত লাগে এবং অনেক ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
তবে আঘাত কম হলে পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি ভাব, বিভ্রান্তি, স্মৃতিশক্তির সমস্যা, মাথাঘোরা এবং ভারসাম্যহীনতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে প্রতিক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, বিষণ্ণতা এবং ব্যক্তিত্বের পরিবর্তনও দেখা যায়।
সম্প্রতি সামাজিকমাধ্যমে বজ্রপাতে মারা যাওয়া সন্তানের লাশ পাহারা দেওয়ার একটি ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। এর আগে গণমাধ্যমে বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির লাশ চুরি হওয়ার ঘটনাও উঠে এসেছে।
প্রশ্ন হলো, কেন এমনটি ঘটে?
এর মূল কারণ কুসংস্কার। অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে, বজ্রপাতে মৃতদেহ নাকি চুম্বকের মতো হয়ে যায়। এই ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকেই লাশ চুরির ঘটনা ঘটে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক প্রধান সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইলেকট্রিক শকে মৃত্যু হওয়া দেহ এবং বজ্রপাতে মৃত্যু হওয়া দেহের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য থাকে না।
বজ্রপাত সৃষ্টির জন্য সাধারণত তিনটি উপাদান প্রয়োজন হয়। বাতাসের আর্দ্রতা, অস্থিতিশীল বায়ু এবং ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ। আর্দ্রতা মূলত সমুদ্র থেকে আসে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে মিশে মেঘ তৈরি করে।
বজ্রপাতের সময় বায়ুর তাপমাত্রা প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এতে বাতাস দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে হঠাৎ প্রসারিত হয় এবং শক্তিশালী কম্পন বা শকওয়েভ তৈরি করে। এই শকওয়েভই আমরা বজ্রধ্বনি হিসেবে শুনি।



