প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা
১২ ঘণ্টার মধ্যে হবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ
- ফেরিঘাটে পরিবহন থেকে নামতে হবে যাত্রীদের
- মহাসড়কের ওপর গরুর হাট নয়

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ, ঈদযাত্রা এবং চামড়া সংরক্ষণে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে নির্দেশনাগুলো তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি জানাচ্ছিলেন, সভায় বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কোরবানির দিন ১২ ঘণ্টার মধ্যে সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
‘সিটি কর্পোরেশনের দুইজন প্রশাসক ছিলেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সারা দেশের সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং মেয়রদের সাথে বসবেন স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসকদেরকেও দেওয়া হবে নির্দেশনা। নিশ্চিত করতে চাই, দেশবাসীকে দেখাতে চাই যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন হবে এবং কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার হবে ১২ ঘন্টার মধ্যে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছিলেন, নিরাপদ করতে হবে সড়ক যাতায়াত। সড়কের পাশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রমা সেন্টারগুলো কার্যকর করতে হবে সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে। সেখানে প্রস্তুত থাকবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, চিকিৎসক ও নার্স। নিকটবর্তী উপজেলা, জেলা ও অন্যান্য হাসপাতাল সাত দিন আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হবে, যাতে দুর্ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
তার ভাষ্য, নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেরিঘাটে দেওয়া হবে সাইনবোর্ড এবং করা হবে মাইকিং। নিশ্চিত করতে হবে যাত্রীদের নামিয়ে পরিবহনের ওঠানামা। কোনো বাসচালকের গাফিলতি থাকলে তার লাইসেন্সের বিষয়ে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। এ বিষয়ে বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
‘সাতদিন আগে থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটা মনিটরিং সেল গঠন করবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার। সেই মনিটরিং সেলের মাধ্যমে মহাসড়কে সার্কিট ক্যামেরা যেখানে আছে সেখান থেকে পাওয়া যাবে দৃশ্য। যেন জেলা পর্যায়ে থেকে মহাসড়কের আশেপাশে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সবসময় নজরদারিতে রাখা যায়।‘
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছিলেন, সড়ক ও মহাসড়কের ওপর কোনো গরু বা পশুর হাট বসতে দেওয়া যাবে না। রেললাইনের কাছেও বসানো যাবে না হাট। এমন দূরত্বে স্থান নির্ধারণ করতে হবে, যাতে রেল চলাচলে কোনো সমস্যা না হয়। প্রয়োজনে আরও নতুন হাটের ব্যবস্থা করবে সিটি করপোরেশন, যেন সড়কে ঝুঁকি তৈরি না হয়।
কোরবানির চামড়া সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রতি বছর মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান চামড়া সংগ্রহে সমস্যায় পড়ে। চামড়া সংরক্ষণে ঘাটতি থাকে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
‘শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, চামড়া সংরক্ষণে আরও সচেতন হতে হবে। এ জন্য জেলা উপজেলা পর্যায়ে চলবে ট্রেনিং, প্রচারণা এবং বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ। সেজন্য বাজেট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যেন চামড়া নষ্ট না হয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, কাঁচা চামড়া ঢাকায় একসঙ্গে না এনে ধাপে ধাপে আনা হবে। এতে চাপ কমবে সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের ওপর।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।
‘ভবিষ্যতে চামড়া শিল্পকে যাতে আরো সমৃদ্ধ করা যায়, সেজন্য আলাদা একটা ব্যবস্থা নেবেন প্রধানমন্ত্রী। কীভাবে ডেভলপ করা যায় এই ইন্ডাস্ট্রিকে, বাড়ানো যায় সেন্ট্রাল সিইটিপির ক্যাপাসিটি।’
সন্ধ্যায় ঈদুল আযহা সম্পর্কিত এই সভা অনুষ্ঠিত হয় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই সভায় ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।



