ব্যয় ৪৮৩ কোটি
সরকারের প্রথম একনেকে ৫ প্রকল্প অনুমোদন

সংগৃহীত ছবি
সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হলো বিগত সময়ের ৫ প্রকল্প। এগুলো বাস্তবায়নে বাড়তি খরচ হবে ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিলের ৩৯০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। বাকি ৯২ কোটি টাকা ৫৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে বৈদেশিক ঋণ থেকে।
এসব প্রকল্পের মধ্যে দুই প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৪৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা। তবে একটি প্রকল্পে খরচ কমানো হয়েছে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অন্য দুই প্রকল্পের খরচ না বাড়িয়ে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবে সায় দিয়েছে একনেক।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেয়া হয় এ অনুমোদন। একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে সংশোধিত প্রকল্প আছে ৩টি ও মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প দুটি।
উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারণ, ব্যয় কাটছাঁট আর উন্নয়নের গতিপ্রকৃতির দিশা ঠিক করতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এ কমিটি সাধারণত রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ- এনইসি সন্মেলন কক্ষে বৈঠক করে থাকে। এবার রেওয়াজ পাল্টে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হলো বৈঠকটি। এতে ৮টি প্রকল্প নিয়ে আলোচনার পর মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন জানালেন, ‘এদিন ১৯টি প্রকল্প উঠার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর আরেকটা সভা থাকায় ৮টির আলোচনার মধ্যেই মুলতবি রাখা হয় সভাটি। আগামী সপ্তাহে আবার বসবে সভা।
অনুমোদিত প্রকল্প পাঁচটি হলো, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি। এর মধ্যে ৩৬৮ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অনুমোদন দেওয়া হয় সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ (১ম সংশোধন) এর। প্রকল্পটির মূল প্রকল্প ব্যয় ছিল ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। এখন দাঁড়াল ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।
একই মন্ত্রণালয়ের আরেকটি হলো ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় কমিয়ে চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪ (সিডিএসপি-৪) (৩য় সংশোধন) প্রকল্প। এর মূল প্রকল্প ছিল ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরে প্রথম সংশোধনে করা হয় ৩৪ কোটি ২০ লাখ, ২য় সংশোধনে ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বৃদ্ধির পর এবার তৃতীয় সংশোধনে কমিয়ে করা হলো ৩০ কোটি ৭১ লাখ।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনুমোদন পায় আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প। ব্যয় না বাড়িয়ে এর মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি প্রকল্প। এগুলো হলো শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন (কম্পোনেন্ট-২)— দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ প্রকল্প এবং গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রথমটির ব্যয় বাড়ানো হলো ১১৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মূল ছিল ১ হাজার ৯৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এখন ব্যয় দাঁড়াল ১ হাজার ২১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অপরদিকে, মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ানো হয়নি, বেড়েছে শুধু মেয়াদ।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।



