আগামীর সময়

উপদেষ্টা পদে নিজের নিয়োগ চেয়ে চিঠি, খোয়ালেন চাকরি

উপদেষ্টা পদে নিজের নিয়োগ চেয়ে চিঠি, খোয়ালেন চাকরি

সংগৃহীত ছবি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিরোধী দলের উপদেষ্টা হিসেবে নিজেকে নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে চাকরি হারালেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন। দলীয় নির্দেশনা লঙ্ঘনের দায়ে মাহমুদুলকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানকে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে শফিকুর রহমানের উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান পরিষ্কার করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে একটি চিঠি লেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তবে মাহমুদুল হাসান ওই চিঠিতে এমন কিছু বিষয় যুক্ত করেছেন যা আমিরের নির্দেশনা ছিল না। এ কারণে দলীয় নির্দেশনা লঙ্ঘনের দায়ে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো জামায়াত আমিরের সই করা ওই  চিঠিতে বলা হয়েছিল, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘ, কমনওয়েলথসহ ইউরোপ-আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

চিঠিতে প্রস্তাব করা হয় যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিরোধী দলীয় নেতার এই পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিলে তা হবে একটি অভিনব পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে পররাষ্ট্র বিষয়ে সরকারের কাছে বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরা সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় থাকবে।

সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে খবর প্রকাশ হলে দলের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতি দিলেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিবৃতিতে লেখা আছে, ‘মূলত প্রায় দুই সপ্তাহ আগের ঘটনা... সে সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ওই চিঠির বিষয়ে জামায়াত আমিরকে অবহিত করলেও বিষয়টি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে যাচাই করে দেখা যায়, চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কে জামায়াত আমিরকে যেভাবে ব্রিফ করা হয়েছিল, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। বিশেষ করে, চিঠিতে উল্লিখিত মন্ত্রীর পদমর্যাদা চাওয়ার অংশে জামায়াত আমিরের কোনো সম্মতি ছিল না।’

বিষয়টি জানামাত্র মাহমুদুল হাসানকে তাৎক্ষণিক ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান- বলা আছে বিবৃতিতে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক সদস্য জানান, মূলত চাকরির সুপারিশের কথা বলে জামায়াত আমিরের কাছ থেকে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করিয়ে নেন মাহমুদুল হাসান। বিষয়টি ধরা পড়ার পরই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    শেয়ার করুন: