আগামীর সময়

জাতিসংঘে খলিলুরকে তুরস্কের সমর্থন, মস্কোকে পাশে চায় ঢাকা

জাতিসংঘে খলিলুরকে তুরস্কের সমর্থন, মস্কোকে পাশে চায় ঢাকা

সংগৃহীত ছবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে তুরস্ক। রাজধানী আঙ্কারায় বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এ সমর্থনের কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। 

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তারা বাংলাদেশ ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা। কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়াতে সেখানে তুরস্কের ডিপ্লোম্যাসি একাডেমি এবং বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সই হয়েছে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)।

অন্যদিকে, রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন। এসময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থীর প্রতি রাশিয়ার সমর্থন আহ্বান করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ-রাশিয়ার সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা জানান।

বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। 

‘বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি অভিবাসন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা ক্রমেই সম্প্রসারিত হচ্ছে’- জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত। বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার প্রশংসাও করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন আদায়ে শনিবার ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছিল, অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক ও আঙ্কারায় একাধিক বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশ নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

এসব বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন আদায়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে প্রথমে ফিলিস্তিন প্রার্থিতা ঘোষণা করলেও সম্প্রতি তা প্রত্যাহার করেছে। ফলে এখন এ পদে সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ।

    শেয়ার করুন: