তারেক রহমানের প্রথম শ্রমিক সমাবেশে লাখো উপস্থিতির প্রত্যাশা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রথমবারের মতো কোনো শ্রমিক সমাবেশে সশরীরে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে নিজের দল বিএনপি প্রধান হিসেবে হবে তার এই অংশগ্রহণ।
শুক্রবার (১ মে) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুপুর ২টায় শুরু হবে এই সমাবেশ, যার আয়োজন করেছে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানালেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
এর আগে গত বছরও শ্রমিক দিবসের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন তারেক রহমান। তবে সে সময় লন্ডনে থাকায় শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলেন তিনি।
সে হিসেবে এবারই প্রথম এমন কোনো শ্রমিক সমাবেশে সরাসরি হাজির হতে যাচ্ছেন। এই এক বছরে তিনি হয়েছেন দলের চেয়ারম্যান, সেই সঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রীও।
সে কারণে নজরুল ইসলাম খানের প্রত্যাশা, এবারের শ্রমিক দিবসের আয়োজনে কয়েক লাখ শ্রমজীবী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শ্রমিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল— এমন অভিযোগ করে নজরুল ইসলাম বললেন, ইরান যুদ্ধের কারণে দেশ এখন সংকটে থাকলেও বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রমিকদের জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পূরণ করবে সরকার।
সু চির সাজা আরও কমছে
৩০ এপ্রিল ২০২৬
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বললেন, ‘শ্রমজীবী মানুষের যে সমস্যা, তা আইন ও বিধিমালা করে সমাধান করা হবে।’
বিশেষ প্রেক্ষাপটে এবারের মে দিবস পালিত হচ্ছে বলে জানালেন তিনি। আর এই বিশেষ প্রেক্ষাপট হলো দীর্ঘ সময় ন্যূনতম মজুরির জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা না হওয়া, আউটসোর্সিং নিয়োগ বৃদ্ধি, শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়া এবং শিক্ষিত বেকার বৃদ্ধির মতো বিষয়। তার মতে, এসব সমস্যা শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজের বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করলেন নজরুল ইসলাম খান। তার মতে, নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সরকারি পদ বিলুপ্ত করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ায় শ্রমের ক্ষেত্র সংকুচিত করেছে বিগত সরকার। পাশাপাশি পাটসহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশীয় শিল্পের পরিবর্তে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
‘সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শোভন কাজের পরিবেশ, নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হবে’, যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টার মতে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে। তাই ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানোর ওপরও জোর দিলেন তিনি। এটিও জানালেন, সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণে জাতীয় নিম্নতম মজুরি বোর্ডকে আরও কার্যকর করার দাবি জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বললেন, শুক্রবারের সমাবেশ থেকে শ্রমজীবী মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া, বদরুল আলম সবুজসহ অন্যরা।





