ফল খেয়ে নিষ্ফল মিটিং, ভাড়া বাড়তে পারে ২২ পয়সা

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
সন্ধ্যা ৭টা ২০। বনানীর বিআরটিএ ভবন। বাসের ভাড়া বাড়ানোর বৈঠক শুরু হলো। একটু পরই বৈঠক কক্ষে এলেন সংস্থাপ্রধান। তিনি অবশ্য এই বৈঠকের সভাপতিও বটে। তার প্রবেশের পর হলো সবার পরিচয়। এরপর কথা শুরু। কথা চলতে থাকল, চলতেই থাকল। তাদের কথা শেষ হলো ঠিক রাত ১০টা ৭ মিনিটে।
ততক্ষণে এই ঘরে ১৪ কাপ রঙ চা ঢুকেছে। পৌনে ৮টায় গেছে ‘কাবুলী’ ব্র্যান্ডের দোকান থেকে আনা নাশতা। তাতে ছিল আপেল, সমুচা, কেক ও স্যান্ডউইচ। এই যে এত কিছু, এত সময়ের আলাপ। বৈঠকের শুরুর ফল। সবকিছুই যেন বিদায় বেলায় হয়ে গেল নিষ্ফল। কেননা বৈঠকের ফল শূন্য। কোনো সিদ্ধান্ত এদিন চূড়ান্ত করা যায়নি।
বৈঠক শেষে রাত ১০টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর তড়িঘড়ি বের হয়ে যাচ্ছিলেন। জানতে চাওয়া হলো, ভাড়া কত সুপারিশ করলেন? তার স্পষ্ট জবাব, ‘আমরা কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে পারিনি। সকালে সুপারিশ তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। বাকিটা মন্ত্রণালয় কাটছাঁট করে চূড়ান্ত করবে। তারপর কালই জারি হতে পারে প্রজ্ঞাপন।’
তবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন একজন আগামীর সময়কে বলেছেন, বৈঠক থেকে ২২ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর আলোচনায় একমত হয়েছে বিআরটিএ ও পরিবহন মালিকপক্ষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিটিং শিডিউলে কেউ স্বাক্ষর করেনি। তাই চূড়ান্ত হয়নি। সকালে বিআরটিএ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ পাঠাবে। সব ঠিক থাকলে মহানগর ও দূরপাল্লা—দুই জায়গাতেই ২২ পয়সা করে ভাড়া বাড়বে।
এ ক্ষেত্রে বর্তমানে মহানগরীর ভাড়া ২ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বেড়ে কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৬৭ পয়সা হবে। আর দূরপাল্লায় ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া হবে ২ টাকা ৩৪ পয়সা।
এবার আবার ফলে ফেরা যাক। কাবুলির দোকানে ফোন করে নাশতার প্যাকেটের দাম জানতে চাওয়া হয়েছিল। তারা অনুমান করে আপেলের দাম বলেছে প্রতি পিস ৫০ টাকা, সমুচা ১৫ আর কেক ৪০ টাকার ওপরে। কিন্তু স্যান্ডউইচের দামের ধারণা দিতে পারেনি।
মাঝে দিয়ে আবার সাংবাদিকের ওপর বিরক্ত হয়েছিলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান। উত্তেজিত কণ্ঠে সাংবাদিককে তিনি ‘অতিরিক্ত সাংবাদিকতা’ না করার পরামর্শ দেন।



