পহেলা বৈশাখে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নিয়ে যা বললেন ডিএমপি কমিশনার

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার (ডিএমপি) মো. সরওয়ার । ছবি: সংগৃহীত
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিশেষ করে রমনা পার্ক ও আশপাশের এলাকায় কোনো ধরনের মুখোশ, ব্যাগ, ধারালো বস্তু ও দাহ্য পদার্থ বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এছাড়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফানুস, আতশবাজি এবং শব্দদূষণ সৃষ্টি করে এমন বাঁশির ব্যবহার।
তবে এই পহেলা বৈশাখ নিয়ে জঙ্গি হামলার কোনো আশঙ্কা নেই বলে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার (ডিএমপি) মো. সরওয়ার। তিনি বলেছেন, ‘তবুও আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’
রবিবার বিকেলে রাজধানীর রমনা পার্কে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএমপি কমিশনার উল্লেখ করেন, ‘১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিপুল মানুষের সমাগম হবে। যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারে, সেজন্য ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ডিএমপি।’
‘নববর্ষের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুরো ঢাকা মহানগরীকে ভাগ করা হয়েছে ৯টি সেক্টর ও ১৪টি সাব-সেক্টরে। প্রতিটি এলাকায় ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে মোতায়েন থাকবে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সুইপিং করা হবে ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দিয়ে’, যোগ করেন তিনি।
কমিশনার স্পষ্ট করেন, ‘রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যারিকেড বসানো হবে ১৪টি পয়েন্টে। প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশি করা হবে আর্চওয়ে ও হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে। সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে সিসিটিভি, ভিডিও ক্যামেরা, স্টিল ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে। পাশাপাশি বিশেষ ফোর্স মোতায়েন থাকবে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও রুফটপে।’
ইভটিজিং ও অপরাধ দমনে বিশেষ টিম
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার বলেছেন, উৎসবের দিনে ইভটিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদা পোশাকে কাজ করবে বিশেষ টিম। এছাড়া হকারদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ঠেকাতেও থাকবে আলাদা নজরদারি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার বা গুজব ঠেকাতে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।
ছায়ানট ও শোভাযাত্রার বিশেষ ব্যবস্থা
রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলবে সকাল ৬টা ১৫ মিনিট থেকে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত। নির্ধারিত কয়েকটি গেট দিয়ে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকবে এবং নারী-পুরুষ ও শিল্পীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে আলাদা গেট।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার উদ্যোগে সকাল ৯টায় শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রা, যা শেষ হবে চারুকলা থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর হয়ে আবার চারুকলায় এসে। শোভাযাত্রার পুরো রুট থাকবে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে অনুষ্ঠান।
বিকেল ৫টার পর রমনা পার্কের সব গেট ব্যবহৃত হবে শুধু বের হওয়ার জন্য। এ সময় প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না আর কাউকে।
ট্রাফিক ডাইভারশন
পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে যান চলাচলে ডাইভারশন দেওয়া হবে শাহবাগ ও আশপাশ এলাকায়। বাংলামোটর, কাকরাইল, হাইকোর্ট, নীলক্ষেতসহ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকবে ব্যারিকেড।
এ সময় যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।
পার্কিং ও জরুরি সেবা
গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে নির্ধারিত কয়েকটি স্থানে। এছাড়া প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, মেডিকেল টিম, নৌ-পুলিশের ডুবুরি দল।
ডিএমপি কমিশনার নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করুন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে জানান।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে মহড়া কার্যক্রম চালায় ডিএমপির সিটিটিসির ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট।



