ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র অস্তিত্ব নেই

বাংলা বর্ষবরণে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নাকি ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’— চলমান এই বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এবার জানা গেল, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় এটি ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা অন পহেলা বৈশাখ’ শিরোনামেই অন্তর্ভুক্ত আছে। যদিও চলতি বছর বৈশাখের অন্যতম এই আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে আনন্দ শোভাযাত্রা। চারুকলা অনুষদে চলছে বাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে শোভাযাত্রার প্রস্তুতি।
গত বছর থেকে বর্ষবরণ শোভাযাত্রাটি 'আনন্দ শোভাযাত্রা' নামকরণ হলেও ইউনেস্কোর ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র কোনো অস্তিত্ব নেই। ইউনেস্কো ঢাকার হেড অফ অফিস অ্যান্ড রিপ্রেজেনটেটিভ সুজান ভাইজ জানালেন, ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় বর্তমানে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা অন পহেলা বৈশাখ’ নামেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ থেকে আশির দশকের শেষভাগে যে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল, সেটিই পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ নেয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এ কর্মসূচি।
ইউনেস্কো নামকরণ সংক্রান্ত জাতীয় সিদ্ধান্তে কোনো অবস্থান নেয় না, কারণ এ ধরনের বিষয় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব এখতিয়ার ও সিদ্ধান্তের আওতাভুক্ত
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। নাম বদলের ফলে জাতিসংঘের সংস্থার স্বীকৃতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।
সুজান ভাইজ জানালেন, ‘ইউনেস্কো নামকরণ সংক্রান্ত জাতীয় সিদ্ধান্তে কোনো অবস্থান নেয় না, কারণ এ ধরনের বিষয় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব এখতিয়ার ও সিদ্ধান্তের আওতাভুক্ত।’ যদি বাংলাদেশ সরকার এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইউনেস্কোর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিতে হবে বলে জানান তিনি।
সুজান ভাইজ আরও জানান, ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ কনভেনশনের সাংগঠনিক নির্দেশাবলী অনুযায়ী, এ ধরনের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র করতে পারে এবং তা কমিটির অধিবেশনের অন্তত তিন মাস আগে জমা দিতে হয় বিবেচনার জন্য।’
নাম পরিবর্তন করা হলেও শোভাযাত্রার বৈশিষ্ট্যে যেহেতু কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির সঙ্গে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি কোনো সাংঘর্ষিক ব্যাপার নয়
নামকরণ বিতর্কের প্রসঙ্গে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বললেন, ‘এটি গত বছরই স্পষ্ট করা হয়েছে।’ তার ভাষ্য, পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে প্রথম যে শোভাযাত্রাটি হয়েছিল, তার নাম ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ ছিল। সেটি পরে কী কারণে যেন ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ হয়ে যায়। আমরা কোনো কিছু পরিবর্তন করিনি। আমরা আগের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখছি।
নাম পরিবর্তনের কারণে ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না সেই প্রশ্ন ছিল তার কাছে। জবাবে তিনি জানালেন, ‘নাম পরিবর্তন করা হলেও শোভাযাত্রার বৈশিষ্ট্যে যেহেতু কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির সঙ্গে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি কোনো সাংঘর্ষিক ব্যাপার নয়।’
এর আগে গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হবে। রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি হয়ে শোভাযাত্রাটি পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে। এবছর নববর্ষের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।
ঢাবি প্রশাসন জানিয়েছে, নববর্ষের সকল অনুষ্ঠান বিকাল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। এদিন ক্যাম্পাসে বিকাল ৫টার পর কোনভাবেই প্রবেশ করা যাবে না, শুধু বের হওয়া যাবে। নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোন গাড়ি প্রবেশ করতে পারবে না।

