ছুটির দিনে পুতুলনাট্য, বইমেলায় ভিড়

ছুটির দিনে অমর একুশে বইমেলায় ছিল বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল থেকেই মেলার মাঠে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য পুতুলনাট্য ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
বেলা ১১টায় মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটার চত্বরে দেখা যায় শিশুদের উৎসাহ- কেউ বাবা-মায়ের হাত ধরে ঘুরছে, কেউ আবার শিশুতোষ বইয়ের রঙিন মলাট উল্টে দেখছে। দুপুর গড়াতেই বিকেলের দিকে মেলায় জনসমাগম আরও বাড়ে।
এবার শিশুদের জন্য আলাদা চত্বর না থাকলেও মেলার একটি অংশে শিশু-কিশোর প্রকাশনার স্টল সাজানো হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান শিশু একাডেমি ও বাংলা একাডেমির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থাও শিশুদের জন্য নানা বই এনেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক রশীদ হারুন বলেছেন, নতুন প্রজন্ম পুতুলনাট্যে নতুন চিন্তার বিকাশ ঘটাচ্ছে। মেধা ও সৃজনশীলতা থাকলে পুতুলনাট্য আবারও মানুষের বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
মেলায় নতুন বইয়ের মধ্যেও ছিল বৈচিত্র্য। পাঞ্জেরি স্টলে এসেছে আদনান সৈয়দের লেখা ভৌতিক গল্পের বই ‘আমেরিকার প্যারানরমাল গল্প’। এছাড়া চন্দ্রাবতী একাডেমি এনেছে আসমা উল হোসনা চৌধুরীর প্রবন্ধগ্রন্থ ‘বাংলা গদ্যসাহিত্য : বিবিধ বিকিরণ’, যেখানে বাংলা গদ্যসাহিত্যের বিভিন্ন চরিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় বাতিঘর স্টল থেকে কয়েকটি বই কেনেন আফ্রিদা ইসলাম। তিনি বলেছেন, এবারের ঈদে অনেককে বই উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
শুক্রবার ছিল অমর একুশে বইমেলার নবম দিন। সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলে। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ছিল শিশুপ্রহর। এদিন মেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়ে ১৯৯টি।
সকাল ১০টায় বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সভাগৃহে অমর একুশে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিনটি শাখায় মোট ৩০ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন নাসিম আহমেদ, টিটো মুনশী ও অনন্যা লাবণী পুতুল।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন্মশতবর্ষ : কলিম শরাফী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অণিমা রায়। আলোচনায় অংশ নেন সাইম রানা এবং সভাপতিত্ব করেন সাধন ঘোষ।
অণিমা রায় বলেছেন, কলিম শরাফীর কণ্ঠস্বর সংগীতের সৌন্দর্য বহনের পাশাপাশি জাতির আত্মপরিচয়ের সংকটময় মুহূর্তে অস্তিত্ব রক্ষার উচ্চারণ হয়ে উঠেছিল।
সাইম রানা বলেছেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিকতার বার্তা নিয়ে তিনি মানুষের মাঝে জাগরণ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন।
সভাপতির বক্তব্যে সাধন ঘোষ বলেছেন, কলিম শরাফী ছিলেন বাংলাদেশের একজন সর্বজনীন সংগীতগুরু।
এদিন ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন মৃদুল মাহবুব ও এহসান মাহমুদ।
বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন শাহীন রেজা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন শওকত আলী, রবিউল মাশরাফী, রূপশ্রী চক্রবর্তী ও মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব চন্দ্র ঘোষ, মো. হারুনুর রশিদ, সঞ্চিতা রাখি, মো. রমজান হোসেন, শিরিন জাহান, রতন কুমার সাহা ও নূরতাজ পারভীন।
যন্ত্রসঙ্গীতে ছিলেন এস এম জিয়াউর রহমান (তবলা), আনোয়ার সাহাদাত রবিন (কিবোর্ড), ফায়জুর রহমান (বাঁশি) ও মেহেদী ইসলাম (অক্টোপ্যাড)।
শনিবারও সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে। সকাল ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত থাকবে শিশুপ্রহর।
এছাড়া আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
বিকেল ৩টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘জন্মশতবর্ষ : নূরজাহান বেগম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ইসরাইল খান, আলোচনায় অংশ নেবেন সোহরাব হাসান এবং সভাপতিত্ব করবেন লুভা নাহিদ চৌধুরী। বিকেল ৪টায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

