ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অসম’ চুক্তি জ্বালানি সরবরাহে অন্তরায়

সংগৃহীত ছবি
বর্তমানে জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালি বড় বাধা নয়। অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে যে অসম চুক্তি করেছে, তা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
তার মতে, পতিত সরকারের সময় জ্বালানি নীতি ছিল বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত। আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের যোগসাজশে জ্বালানি খাতে তোষণমূলক নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিবর্তে কায়েমি স্বার্থে আমদানিমূখী জ্বালানি নির্ভরতাকে প্রাধান্য দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে এলএনজি। ঠুঁটো জগন্নাথ করা হয়েছিল বাপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানকে।
আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) এফডিসিতে প্রাক—বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলছিলেন সিপিডির প্রথম নির্বাহী পরিচালক।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
রাশিয়ার তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অনুমতি পাওয়া গেছে এই সুযোগ বাংলাদেশকে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন ড. দেবপ্রিয়।
তার ভাষ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে কেবিনেট সাব কমিটি করেছে সরকার। সেই কমিটি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে অবহিত করতে আলোচনা হতে পারে জাতীয় সংসদেও।
‘নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার রিফর্ম কমিশন গঠনের কথা বললেও তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আয় ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে সরকার কি ধরনের সংস্কার করতে চায় তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত’—উল্লেখ করেন ড. দেবপ্রিয়।
‘অতীতে দুর্নীতির কারণে জ্বালানিতে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারিনি। দলীয় স্বার্থে জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উপেক্ষা করা হয়েছিল। তাই আসন্ন বাজেটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে’— বলছিলেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
আসন্ন বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন রাখার পরামর্শ দেন কিরণ। বললেন, ‘সংকটকালে একটি জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, টেকসই বাজেট দিতে হবে। সুষম বাজেট না হলে সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে পারে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী নতুন সরকারকে তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হয় এমন বাজেট দেওয়া উচিত। যাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের উপর চাপ তৈরি না হয়, জনভোগান্তি না বাড়ে, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকে।’
‘আগামী বাজেটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক সুরক্ষা অর্জন করা যাবে’ প্রস্তাবিত প্রাক—বাজেট ছায়া সংসদে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি এর বিতার্কিকদের পরাজিত করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম, মো. আলমগীর হোসেন, জিয়াউল হক সবুজ ও শেখ আবদুল্লাহ।



