জুয়ার টাকার জন্য ভিসির আইডি হ্যাক

সংগৃহীত ছবি
হৃদয় রহমান (ছদ্ম নাম)। একটি প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা। হঠাৎ একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিস কক্ষে থাকা অবস্থায় তার হোয়াটসঅ্যাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির এসএমএস। দুটি বিকাশ নম্বর দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত টাকা পাঠানোর অনুরোধ জানান। এসএমএস দেখেই কিছুটা বিস্মিত হন হৃদয় রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত হতে দ্রুতই ফোন দেন ভিসিকে। কিন্তু ফোন না ধরে ফের এসএমএসে দ্রুত টাকা পাঠানোর কথা বলেন। একপর্যায়ে হৃদয় রহমান ভিসির কথা চিন্তা করে ওই বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে দেন ৫৫ হাজার টাকা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে ভিসি জানান তার হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক হয়েছে। এরপর হৃদয় বুঝতে পারলেন বড় প্রতারণা শিকার হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকের।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ২৯ জানুয়ারি ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি চৌকস দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৫ মে) ভোররাতে রিহাদ হাসান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। রিহাদের মোবাইল পর্যালোচনায় করে দেখা গেছে, তিনি অবৈধ অনলাইন জুয়ার অনেকগুলো অ্যাপসে সক্রিয়। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাকড করে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, স্বনামধন্য এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাইস চ্যান্সেলরের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাকড করে, তার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনের একটি চৌকস আভিযানিক দল।
বাদীর দায়েরকৃত মামলার এজাহারে উল্লখ করা হয়, একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা তার কর্মস্থলে অবস্থানকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের পরিচয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান। বার্তায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত দুটি বিকাশ নম্বরে অর্থ পাঠানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে প্রতারক চক্র ফোন রিসিভ না করে বার্তার মাধ্যমে দ্রুত অর্থ পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে বাদী সরল বিশ্বাসে তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ৫৫ হাজার টাকা পাঠান। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী বাদী ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে ভাইস চ্যান্সেলর জানান, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি হ্যাকড হয়েছে এবং তিনি এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি। তখন বাদী নিশ্চিত হন যে তিনি একটি পরিকল্পিত প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেছেন, প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য রিহাদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এতে অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্রায় ৪০টির মতো অ্যাপসের সক্রিয় উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামি স্বীকার করেছে, তিনি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিয়মিত জুয়া খেলতেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ জুয়ায় ব্যয় করতেন। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সে সংক্রান্ত তথ্যাদির জন্য গ্রেপ্তারদের পর্যাপ্ত পুলিশ প্রহরা ও সতর্কতার সঙ্গে রিমান্ডের আবেদনসহ সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সতর্ক ও আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।



