যাত্রী কল্যাণ সমিতির স্মারকলিপি
‘মাফিয়া’ নেতাদের ইচ্ছায় ঠিক হয় ভাড়া

ফাইল ছবি
যাত্রীরা কত ভাড়া দিয়ে গণপরিবহন ব্যবহার করবেন তা ঠিক করছেন পরিবহন খাতের ‘মাফিয়া’ নেতারা। এমনকি এই খাতের নীতি ও কৌশল নির্ধারণের ভারও চলে যাচ্ছে তাদের হাতে।
আজ রবিবার যখন ঢাকার সড়কে গণপরিবহনের সংকট, তেলের দামের ওপর ভর করে চলছে ভাড়া বাড়ানোর পাঁয়তারা; তখন এসব অভিযোগ আনলেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী। যিনি যাত্রী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব।
বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের মর্জিমতো ভাড়া তৈরি করেন এবং প্রভাব খাটিয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেই ভাড়াই কার্যকর করিয়ে নেন
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে মোজাম্মেল বললেন, পরিবহন নেতাদের মর্জিমতো বাসের ভাড়া নির্ধারণ করা হচ্ছে। আর এই নেতারা মূলত ‘মাফিয়া’।
স্মারকলিপিতে তিনি লিখেছেন, ‘এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সড়ক ও নৌ যোগাযোগ খাতে বেসরকারি বাস ও লঞ্চ মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের মাফিয়া নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ভাড়া নির্ধারণ, সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ, নীতি ও কৌশল নির্ধারণের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। এতে যাত্রী দুর্ভোগ এখন চরমে।’
এমনকি নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারও হাঁটছে আগের সরকারগুলোর পথেই, হতাশার সঙ্গে যুক্ত করলেন মোজাম্মেল হক।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের বরাত দিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘সড়ক ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ভাড়া নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ কোনো ব্যক্তি বা প্যানেল ছিল না, এখনো নেই।’
বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের মর্জিমতো ভাড়া তৈরি করেন এবং প্রভাব খাটিয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেই ভাড়াই কার্যকর করিয়ে নেন, অভিযোগ মোজাম্মেল হকের।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করে, এটি জনস্বার্থ এবং যাত্রীস্বার্থের চরম লঙ্ঘন।
সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করতে সরকার জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে বলে প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে স্মারকলিপিতে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাভোক্তা অধিকার আইন অনুসরণ করে বাস ও লঞ্চ মালিক সমিতির সংখ্যানুপাতে যাত্রী ও ভোক্তা সংগঠনের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করে বাস ও লঞ্চের ভাড়া নির্ধারণে নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে বলেও প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে।



