বইমেলায় হাজারের বেশি নতুন বই

অমর একুশে বইমেলায় মঙ্গলবার ১৩তম দিনে এসে হাজার ছাড়ালো নতুন বইয়ের সংখ্যা।
মেলার জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৪২টি নতুন বই এসেছে এবারের মেলায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে কবিতার বই। এই হিসাব মূলত প্রকাশকদের থেকে যারা বইমেলার তথ্যকেন্দ্রে বই জমা দিয়েছেন সেই জমাকৃত বইয়ের হিসাব।
তবে মেলার মাঠে ঘুরে দেখা গেছে, অনেক প্রকাশক তাদের নতুন বই তথ্যকেন্দ্রে জমা দেননি। ফলে এই হিসাবে তাদের সেই বই অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
মেলার জনসংযোগ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী মঙ্গলবার পর্যন্ত মেলায় কবিতার বই এসেছে ৪২৩টি। সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানেই আছে উপন্যাস ১৮০টি।
এছাড়া গল্পগ্রন্থ এসেছে ১৫৭টি, প্রবন্ধ ৩৮টি, গবেষণা ৩৩টি, ছড়া ২১টি, শিশুতোষ ৫৫টি, জীবনীগ্রন্থ ৩৬টি, মুক্তিযুদ্ধ ১টি, নাটক ৫টি, বিজ্ঞান ১৭টি, ভ্রমন ২৭টি, ইতিহাস ১৪টি, রাজনীতি ১৩টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য ৬টি, ভাষা ২টি, ধর্মীয় ১৪টি, অনুবাদ ১০টি, অভিধান ১টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ১টি, অনান্য ৮৮ টি বই এসেছে।
মেলার তথ্যকেন্দ্রে রচনাবলী এবং গনঅভ্যুত্থান বিষয়ক ক্যাটাগরি থাকলেও নতুন কোনো বই প্রকাশিত হবার তথ্য বাংলা একাডেমির কাছে নেই।
মঙ্গলবার ছিল বইমেলার ১৩তম দিন। মেলা চলে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলার তথ্যকেন্দ্রে মঙ্গলবার নতুন বই জমা পড়েছে ১৪৬টি।
বিকাল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেন হরিশংকর জলদাস। সভাপতিত্ব করেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।
প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আহমাদ মোস্তফা কামাল বলছিলেন, ‘সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের পঠন-পাঠন ও জ্ঞানের পরিধি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। তার লেখার ভঙ্গিটিও ছিল খুব অন্তরঙ্গ, যে কারণে প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।’
প্রবন্ধের প্রচলিত কাঠামো ভেঙে সৈয়দ মনজুরুল তৈরি করেছিলেন নতুন এক গদ্যভঙ্গি। সমালোচনা-সাহিত্য ও প্রবন্ধ-সাহিত্যকে তিনি সবসময় উঁচু মর্যাদার আসনে রেখেছেন—যোগ করেন আহমাদ মোস্তফা।
‘শিক্ষক হিসেবেও তিনি সবসময় সবার প্রতি সমান মনোযোগ ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন। লেখক হিসেবে যেমন, তেমনি শিক্ষক ও বৃদ্ধিজীবী হিসেবে এবং সর্বোপরি ব্যক্তিমানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অনেক উচ্চস্থানীয়।’
সৈয়দ মনজুরুলের প্রতিভার কথা বলতে গিয়ে হরিশংকর জলদাস জানালেন, ‘সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন ধী-শক্তিসম্পন্ন অমায়িক একজন মানুষ। উপন্যাস, ছোটোগল্প, প্রবন্ধ ও নানা তাত্ত্বিক বিষয়ে ছিল তার লেখালিখি। তার উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মানুষ এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক। তার সমগ্র কথা-সাহিত্যে সমাজের ও মানুষের দ্বান্দ্বিকতার নানা বিষয় উঠে এসেছে।’
বহুমুখী প্রতিভার কথা বলতে গিয়ে খালিকুজ্জামান ইলিয়াস বলছিলেন, ‘সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন একজন শিক্ষক, সাহিত্যিক ও তাত্ত্বিক। তিনি অসাধারণ চিত্র-সমালোচকও ছিলেন। বহুমাত্রিক চিন্তা ও কর্মের মধ্য দিয়ে শ্রেণিকক্ষে এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করেছেন, তাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তিনি।’
মঙ্গলবার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক ইসরাইল খান এবং কবি মুহাম্মদ আবদুল বাতেন।
বিকাল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মজিদ মাহমুদ, মঈনুল হাসান, স্নিগ্ধা বাউল এবং ড. নাঈমা খানম। আবৃত্তি পরিবেশন করেন— সুষ্মিতা জাফর, তাসনোভা তুশিন। ছিল আলী আশরাফ আখন্দ-এর পরিচালনায় জিয়া সাংস্কৃতিক জোট—এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন বিমান চন্দ্র বিশ্বাস, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, দেলোয়ার হোসেন বয়াতি, শার্লি মার্থা রোজারিও, আশীষ শীল, মানসিফ তাজরিয়ান, নোশিন তাবাসসুম এবং মো. আসাদুজ্জামান।
যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন, সঞ্জয় কুমার দাস (তবলা), সুমন রেজা খান (কী-বোর্ড), মো. আতিকুল ইসলাম (বাঁশি), মো. ফারুক (অক্টোপ্যাড) এবং অনুপম বিশ্বাস (দোতারা)।
বুধবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: এম শমসের আলী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেবেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সভাপতিত্ব করবেন আরশাদ মোমেন। বিকাল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

