‘থানা লুটের অস্ত্রে গুলি করা হয় মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাকে’

সংগৃহীত ছবি
একদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বলছিলেন- চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারীদের তালিকা ধরে সারা দেশে চলবে অভিযান, অন্যদিকে তখন খবর এলো- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ছিদ্দিকুর রহমানকে গুলি করা হয়েছে থানা লুটের অস্ত্র দিয়ে।
গুলির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে বুধবার দুপুরে এ তথ্য জানালেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারি বিভাগ উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, সৈয়দ জিসান আহমেদ, সৈয়দ হাসিবুল হাসান ওরফে পিয়াস, ওমর ফারুক সায়েম এবং সোলায়মান হোসেন চৌধুরী। তাদের থেকে জব্দ করা হয় একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি .৩২ বোর রিভলবার, একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল, ২৩ রাউন্ড গুলি, ৫ রাউন্ড গুলির খোসা ও একটি মোটরসাইকেল।
২ মার্চ দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে ওয়ারী থানার স্বামীবাগের সায়েদাবাদ রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে যায় অধিদপ্তরের একটি টিম। অভিযানের একপর্যায়ে ৩-৪ জন অধিদপ্তরের পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি লাগে তার পায়ে।
এই বর্ণনা দিয়ে মল্লিক হাসান জানালেন অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা।
গুলির খবরে ওয়ারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা একটি আগ্নেয়াস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। জব্দ করা হয় ৪ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি .৩২ বোর রিভলবার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত ৫ রাউন্ড গুলির খোসা।
পরে গোপন তথ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় একটি ৯ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি। প্রাথমিক তদন্তে এই অস্ত্রটি থানা থেকে লুট হওয়া বলে ধারণা করছে ডিএমপি। এটি দিয়েই গুলি করা হয়েছে ছিদ্দিকুরকে।
একই সূত্র ধরে আরেক অভিযানে চতুর্থজনকে গ্রেপ্তারের পর মেলে একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে পুলিশের ওপর ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয় আন্দোলনকারীদের। এর ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাড়ে চারশ'র বেশি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাড়ে ছয় লাখের মতো গোলাবারুদ লুট করা হয়েছে বলে সেসময় প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিল পুলিশ।
এসব উদ্ধারে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিশেষ অভিযান শুরু করে সেনা-পুলিশের সময়ন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী। দেড় বছরে উদ্ধার হয় লুটের প্রায় ৬২ দশমিক চার শতাংশ অস্ত্র ও প্রায় ৫২ শতাংশ গোলাবারুদ।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, লুটের যেসব অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি, সেগুলো অবৈধ।
২৩ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার জানা মতে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। সেগুলো এখন অবৈধ। এগুলো নিয়ে মামলা হতে পারে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগুলো উদ্ধার হবে।’
বুধবার ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার দিলেন কড়া বার্তা- ‘ঢাকা থেকে শুরু হবে, সারাদেশেই চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী, দাগি আসামিদের তালিকা করা হচ্ছে। নির্মোহ তালিকা করে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
লুটের অস্ত্রে গত দেড় বছরে নানা অপরাধ সংঘঠনের খবর এসেছে। সবশেষ সামনে এলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনাটি।
এই ঘটনায় ওয়ারী থানায় অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত তিনটি মামলা এবং হামলার ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা হয়েছে বলে জানালেন ডিএমপির কর্মকর্তা মল্লিক আহসান উদ্দীন সামি।

