রাজধানীতে বাসায় ডাকাতি, নির্যাতনে মৃত্যু ১

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোড এলাকায় মাহবুবুল হক রিপন নামে এক দুবাই প্রবাসীর বাসায় ঢুকে তার স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতি ও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার মধ্যরাতে সংঘটিত এ ঘটনায় দুর্বৃত্তরা বাসার ভেতরে থাকা সদস্যদের বেঁধে রেখে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে লুটপাট চালায়।
নির্যাতনের শিকার হয়ে রিপনের শাশুড়ি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।
নিহতের ছেলে মাহমুদ বলেছেন, ‘রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিল। তখন ভবনের তিন তলার বাসার জানালার গ্রিল কেটে তিনজন ডাকাত বাসায় প্রবেশ করে। সবাই কিছু বুঝে উঠার আগেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সবার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করতে থাকে। এই সময় বাসায় থাকা স্বর্ণ ও নগদ অর্থসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এছাড়া বাসায় থাকা জমির দলিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে সব কিছু লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত সদস্যরা। আমার ভাগ্নি মেহের, মা এবং বোন তখন বাসায় ছিল।’
‘ডাকাতের নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আমরা এসে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। পরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।’—যোগ করেন মাহমুদ।
তার অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লিখিত নোট নিয়ে গেলেও আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। থানায় মামলা করার কথা জানান তিনি।
ডেমরা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম মির্জা বলেছেন, ‘আমরা ডাকাতির বিষয়টি জানতে পেরেছি। ওই বাসায় তিনজন প্রবেশ করে মালামাল নিয়ে গেছে। তবে তিনজনের ঘটনায় এটিকে ডাকাতি বলা যায় কি না, তা যাচাই করা হবে। সাধারণত ডাকাতির ক্ষেত্রে পাঁচজন বা তার বেশি ব্যক্তি জড়িত থাকে। তারপরও আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
‘এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে পুরোপুরি তথ্য পাইনি। ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে কেউ থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’—যোগ করেন তিনি।



