পোড়া বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বইমেলায় উদীচী

ছবিঃ আগামীর সময়
গত ১৯ ডিসেম্বর ঢাকার তোপখানা রোডে উদীচী কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় সংগঠনটির কার্যালয়।
সেদিনের হামলায় আগুনে পুড়ে যায় বাদ্যযন্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। এবারের অমর একুশে বইমেলায় সেই আগুনে পোড়া বাদ্যযন্ত্র নিয়ে স্টল সাজিয়েছে উদীচী।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নজরুল মঞ্চের পেছনে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর স্টলে গিয়ে দেখা যায়, পোড়া হারমোনিয়াম, তবলা আর নথিপত্র ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। স্টলে পোড়া বাদ্যযন্ত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি আছে কিছু বইও।
‘উদীচী কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদ জানাতেই আমরা স্টলটিকে এভাবে সাজিয়েছি। সেই হামলার স্মৃতি মনে রাখুক মানুষ। রাষ্ট্র এই ন্যক্কারজনক হামলার বিচার করুক’—বলছিলেন উদীচীর একাংশের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন।
উদীচী স্টলে অনেকে এসে সেই পোড়া বাদ্যযন্ত্র দেখার এবং উদীচীর এই বেদনার সঙ্গে সহমর্মিতার আহ্বান জানাচ্ছিলেন তপন।
বুধবার ছিল বইমেলার ৭ম দিন। মেলা চলে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। মেলার তথ্যকেন্দ্রে এদিন নতুন বই জমা পড়েছে ৮১টি। মেলার ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস।
এদিকে বিকাল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে সনজীদা খাতুন শীর্ষক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মফিদুল হক। ভীষ্মদেব চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
‘গত বছরের ২৫ মার্চে সনজীদা খাতুনের এক সমৃদ্ধ বৈচিত্র্যময় সৃজনমুখর কর্মময় দীর্ঘ জীবনের অবসান ঘটে। সবচেয়ে বড় কথা তার জীবনসাধনায় আত্মবিকাশের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল সমষ্টিবিকাশের ভাবনা’— সনজীদার অবদানের কথা তুলে ধরতে গিয়ে বলছিলেন মফিদুল হক।
সংগীত চর্চায় সনজীদার অবদান তুলে ধরছিলেন মোহাম্মদ আজম। ‘সন্জীদা খাতুন একটি পরিপূর্ণ, মার্জিত ও সম্ভ্রান্ত জীবনযাপন করেছেন। তার ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল নিবিষ্টলিপ্ততা। তিনি গান সম্পর্কে আলোচনা করতে এবং বিশদ ব্যাখ্যা— বিশ্লেষণ করতে পছন্দ করতেন। তার শিক্ষকসত্তার সঙ্গে প্রাবন্ধিকসত্তা, সমালোচকসত্তা ও বিশ্লেষকসত্তা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। নিঃসন্দেহে সংগীতের সামগ্রিক চর্চা, সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও সামাজিকীকরণ তার বহুমুখী অবদানগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে স্থান পাবে।’
‘সনজীদা খাতুন তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনে যা কিছু আত্মস্থ করেছেন, তা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সংকল্প, প্রত্যয় ও দায়বদ্ধতার বিষয়ে তিনি কখনো আপস করেননি। তার জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে থাকবে’—মনে করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।
এদিন বিকাল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি খোকন মাহমুদ ও মনিরুজ্জামান মিন্টু। আবৃত্তি পরিবেশন করেন সুনৃত সুজন, রূপশ্রী চক্রবর্তী এবং শারমিন সুলতানা জুঁই। সংগীত পরিবেশন করেন— সুমন মজুমদার, বর্ণালী সরকার, সুকন্যা মজুমদার, মুন্নী কাদের, গার্গী ঘোষ, নাদিয়া আরেফিন শাওন।
যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন— কাজী মো. ইমতিয়াজ সুলতান (তবলা), মো. নূর এ আলম সজীব (কী—বোর্ড), গাজী আবদুল হাকিম (বাঁশি) ও মো. মেজবাহ উদ্দিন (অক্টোপ্যাড)।
এদিকে বৃহস্পতিবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৩ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে সুকান্ত ভট্টাচার্য জন্মশতবর্ষ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন সুমন সাজ্জাদ। আবদুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেবেন আহমেদ মাওলা।

