আগামীর সময়

বইমেলার স্টলে তারুণ্যের কর্মযজ্ঞ

বইমেলার স্টলে তারুণ্যের কর্মযজ্ঞ

এবারের অমর একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানের রয়েছে মোট ১ হাজার ১৮টি ইউনিট।

প্রথমা, বাতিঘর, অন্যপ্রকাশ, আদর্শ, কথাপ্রকাশ, ইউপিএলসহ বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের স্টলে ৮/১০ জন করেও বিক্রয় ব্যবস্থাপক রয়েছেন। আর ছোট স্টলগুলোতে অন্তত দুজন করে রয়েছেন। সেই হিসাবে ১ হাজারের বেশি বিক্রয় ব্যবস্থাপক বই বিক্রির কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

প্রকাশনা স্টলগুলোতে দেখা গেছে, যারা এখানে কাজ করছেন, তাদের প্রায় সবাই বয়সে তরুণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। তারুণ্যের কর্মচঞ্চলতায় মুখরিত হচ্ছে বইমেলা প্রাঙ্গণ।

ঢাকার মেয়ে পুষ্পিতা রায় পড়ালেখা করেন দিল্লির শারদা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মেলায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্টলে বিক্রয় ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

বইমেলার কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের অনুভূতি জানালেন পুষ্পিতা। ‘তিন মাসের ছুটিতে বাড়ি এসেছি। এসে ভাবলাম কী করা যায়, পরে বইমেলায় কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। ভালো লাগছে যে বইয়ের সঙ্গে আছি।’

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী বিপ্লবী সরকার ২০১৯ সাল থেকেই নিয়মিত বইমেলায় আসেন। তবে এবারই প্রথম মেলায় প্রকাশনী সংস্থা দোলনের স্টলে কাজ করছেন বিক্রয় ব্যবস্থাপক হিসেবে।

বিপ্লবী বলছিলেন, ‘আমার ভালো লাগার জায়গা বইমেলা। সেইজন্যই আসা। আর পার্ট টাইম কাজ করে কিছু টাকাও পাওয়া যাচ্ছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান বলছিলেন, ‘বইমেলার কাজটা বিকাল থেকে রাত হয়। ফলে পার্ট টাইম হিসেবে অনেক শিক্ষার্থীই কাজটা করেন। এই কাজে অন্যরকম একটা আনন্দ আছে।’

মেলায় কাজ করা শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, এটি পার্ট টাইম কাজ হওয়ায় আনন্দ নিয়েই করা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষ করে বিকালে এসে মেলায় এসে কাজ করতে ভালোয় লাগে তাদের।

অনার্য পাবলিকেশনে বিক্রয় ব্যবস্থাপক হিসেবে আছেন ইডেন কলেজের শিক্ষার্থী জান্নাত আলম। তিনি বইমেলায় প্রথম বিক্রয় ব্যবস্থাপক হিসেবে বইমেলায় কাজ করছেন বলে জানান।

অনেক লোকজন আসেন, বই নিয়ে কথা হয়। সব মিলিয়ে ভালো অভিজ্ঞতার কথা জানালেন জান্নাত।

অনিন্দ্য প্রকাশ স্টলের সাইমুন নেছা সাদিয়া বিগত ৫ বছর ধরে বইমেলায় একই প্রকাশনীতে কাজ করছেন বিক্রয় ব্যবস্থাপক হিসেবে।

‘কিছু অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি আমি মানসিকভাবেও এখান থেকে লাভবান হতে পারছি। এজন্যই কাজটা আমার কাছে বেশি ভালো লাগে’—বলছিলেন সাদিয়া।

বুধবার ছিল বইমেলার ১৪তম দিন। মেলা চলে দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বইমেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ১১৩টি।

বিকাল ৩টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : এম শমসের আলী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সভাপতিত্ব করেন আরশাদ মোমেন।


মেলায় লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি হাসান হাফিজ, কবি শাহীন রেজা এবং কবি মাসুদুল হক।

বিকাল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন কামাল মিনা, এ বি এম সোহেল রশিদ, শায়লা আহমেদ। সংগীত পরিবেশন করেন সাইদুর রহমান বয়াতি, অধ্যাপক মাহবুবা বেগম, জিএম জাকির হোসেন, মো. জাহাঙ্গীর আলম, শাহীনুর ইসলাম, বাউল সুভাষ বিশ্বাস, মিন্টু বাউল, নিশাত আনজুম সাকি এবং এস এম শামীম আক্তার।

যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন কৃষ্ণ চন্দ্র দাশ (তবলা), আবুল কালাম আজাদ (কী—বোর্ড), মো. মামুনুর রশিদ (বাঁশি), বিশ্বজিৎ সেন (পারকেশন) এবং শাওন আহমেদ (দোতারা)।

বৃহস্পতিবার মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৩টায় বইমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : মুস্তাফা জামান আব্বাসী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শারমিনী আব্বাসী।

ওয়াকিল আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেবেন আশরাফুজ্জামান বাবু। বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

    শেয়ার করুন: