অসংক্রামক রোগে মৃত্যু ৭১ শতাংশ, কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
- প্রজ্ঞার কর্মশালায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা

সংগৃহীত ছবি
দেশে ক্রমেই বাড়ছে অসংক্রামক রোগ। ধীরে ধীরে তা হয়ে দাঁড়াচ্ছে উদ্বেগের কারণ। এর পেছনে আছে অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম), স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাটযুক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য। ক্রমেই বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি। তবে চাইলেই এসব ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিকার করা যায় বলে মত দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলা: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিংয়ের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় উঠল এ উদ্বেগ। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় কর্মশালাটি আয়োজন করে প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা)। এতে অংশ নেন প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ২৮ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে বক্তারা জানালেন, বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। প্যাকেটজাত খাবারের সম্মুখভাগে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিংয়ের প্রচলন খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপঘটিত অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশে মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। প্যাকেটজাত খাবারের সম্মুখভাগে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিংয়ের প্রচলন খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায়
বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগ ক্রমেই বাড়লেও এ খাতে অর্থ বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল, মোট স্বাস্থ্য বাজেটের ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এতে ব্যাহত হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিকে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করলে উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব— পরামর্শ দিলেন আলোচকরা।
কর্মশালায় আলোচনা করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী, জিএইচএআইর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের (আত্মা) কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ ও মিজান চৌধুরী এবং প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।
কর্মশালার মুক্ত আলোচনা পর্ব সঞ্চালনা করেন ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ এবং বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল ও শবনম মোস্তফা।



