লুই কানের নকশায় সচিবালয় তৈরিতে সমীক্ষার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- সচিবালয়ে চাহিদা মেটাতে আরও তিনটি ২১ তলা ভবন প্রয়োজন
- ৬৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকার প্রকল্পে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মেলেনি
- স্থান সংকুলান বাড়াতে নতুন করে ভাবছে সরকার

বর্তমান সচিবালয় ভবন ও স্থপতি লুই আই কান। সংগৃহীত ছবি
নতুন সচিবালয় তৈরির প্রসঙ্গে ১১ বছর পর ফের আলোচনায় এসেছেন স্থপতি লুই আই কান। জাতীয় সংসদের এই নকশাকারের নকশায় সচিবালয় তৈরির চিন্তা করছে সরকার। ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরনো বাণিজ্য মেলা মাঠটিতে এটি করা যায় কি না, তা নিয়ে সম্ভাব্য সমীক্ষার নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য রবিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন না দিয়েই ফিরিয়ে দেওয়া হয় সচিবালয়ের নতুন ২১ তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্প।
এর আগে ২০১৫ সালের ১৪ অক্টোবরও ঘটেছিল প্রায় একই ধরনের ঘটনা। সেদিনও একনেকে উঠেছিল জাতীয় সচিবালয় নির্মাণ প্রকল্প। কিন্তু একনেকের সে সময়ের চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া থেকে লুই আই কানের মূল নকশা আনার নির্দেশ দেন। আর মূল সেই নকশা দেখেই প্রকল্প সংশোধন করতে বলেন।
বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় একনেক বৈঠক ছিল রবিবার। সেখানে উঠেছিল নতুন সচিবালয়ের ২১ তলা ভবন নির্মাণের প্রকল্পটি।
বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আগামীর সময়কে বললেন, ‘বাংলাদেশ সচিবালয়ে ২১ তলা নতুন অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৪৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। এটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি অনুমোদন দিতে সম্মত হননি। বরং এর পরিবর্তে লুই আই কানের নকশায় নতুন সচিবালয় নির্মাণ করা যায় কি না, সেটি দেখতে বলেছেন।’
বিষয়টি যেন শুধু ভাবনার মধ্যে না থাকে, সেজন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না—তা নিয়ে গবেষণা বা সমীক্ষা করে প্রতিবেদন দিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ সমীক্ষা চালাতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন তিনি।
বৈঠকে সচিবালয়ের নতুন ভবন নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে উঠে এসেছে— সচিবালয়ের বর্তমান ভবনে যে পরিমাণ কক্ষের চাহিদা রয়েছে, তা পূরণ করতে হলে আরও তিনটি ২১ তলা ভবন প্রয়োজন হবে। কিন্তু সেই পরিমাণ জায়গা নেই সচিবালয়ের ভেতর। এমনকি পাশেই অবস্থিত সাবেক জিপিও ভবনটি নিলেও প্রয়োজনীয় স্থান সংকুলান হবে না।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সচিবালয়ের বিদ্যমান অফিস স্পেস রয়েছে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭২ বর্গফুট। এর বাইরে অতিরিক্ত চাহিদা রয়েছে ৬ লাখ ৮০ হাজার বর্গফুট। প্রথম প্রস্তাবিত ২১ তলা ভবনটি হলে প্রায় দুই লাখ বর্গফুটের মতো চাহিদা মিটত। এজন্য চারটি বেজমেন্টে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা, সুপরিসর লিফটের সংস্থান, অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা, কার পার্কিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রেখে প্রকল্পটির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনের এ প্রাণকেন্দ্রে স্থান সংকুলান না হওয়ায় সরকারকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আগারগাঁওয়ের ফাঁকা জায়গায় লুই আই কানের নকশা মেনে নতুন সচিবালয় হলে যানজটের কী অবস্থা হবে, কত টাকা করচ হবে, কিংবা বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটি সম্ভব কি না— এসব বিষয় একনেকের বৈঠক থেকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এই সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও উদ্যোগটি পিছিয়ে পড়েছিল অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে। এ নিয়ে একটি প্রকল্পও ছিল এডিপি বইয়ের সবুজ পাতায়। সবশেষ আগারগাঁওয়ের ওই ফাঁকা স্থানে একটি উন্মুক্ত পার্ক তৈরির প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিল একনেক বৈঠকে। কিন্তু সেটির নকশা পছন্দ না হওয়ায় সে সময় অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বর্তমানে গবেষণা মাঠ হিসেবে এ জায়গাটি দখলে নিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছেন পাশের শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।
একনেকের বৈঠকে সময় স্বল্পতার কারণে অনুমোদন পায়নি আরও দুটি প্রকল্প। এর মধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব করা হয়েছিল গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প। একই মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, চট্টগ্রামের মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন প্রকল্প। এটি দ্বিতীয় সংশোধনের জন্য করা হয়েছিল উপস্থাপন।



