২৬ মাস পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ভোট শুরু

ছবি: আগামীর সময়
২৬ মাস পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৯টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। দুপুরে ১ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। একইভাবে অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবারও ভোটগ্রহণ। এতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন ২১ হাজার ৭৩১ জন আইনজীবী। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল সর্বশেষ নির্বাচন।
এ বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন বলেছেন, প্রথম দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ১ ঘণ্টা বিরতি দিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণ শেষে শুক্রবার মেশিনে সদস্যদের এবং সম্পাদকীয় পদে হাতে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে হবে নির্বাচন। এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদসমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে)। উভয় প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ছাড়াও স্বতন্ত্র আটজন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন— সিনিয়র সহসভাপতি মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহসভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর (অ্যানি), সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এএসএম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম (শফিক)।
সদস্যপদে এই প্যানেল থেকে লড়ছেন— এএইচএম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।
অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপিসমর্থিত ১১ জোটের সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এসএম কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক লড়ছেন। এই প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন— সিনিয়র সহসভাপতি মো. শাহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. লুৎফর রহমান (আজাদ), কোষাধ্যক্ষ মো. আজমত হোসেন, সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন আক্তার, সহসাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া, লাইব্রেরি সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার, অফিস সম্পাদক মো. আবদুর রাজ্জাক, ক্রীড়া সম্পাদক বাবুল আক্তার (বাবু), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ।
সদস্যপদে এই প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন— বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মহসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস এবং মোশাররফ হোসেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে সভাপতি পদে মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক পদে বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, কোষাধ্যক্ষ পদে রফিকুল ইসলাম, সহসাধারণ সম্পাদক পদে দেওয়ান আবুল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ওলিদা বেগম, অফিস সম্পাদক পদে জাকির হোসেন ও একজন সদস্যপদে নির্বাচন করছেন।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪-২৫ মেয়াদে সর্বশেষ ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগসমর্থিত আইনজীবীরা। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত আইনজীবীরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। এতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এ পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এরপর থেকেই তারা দায়িত্ব পালন করছেন। এই কমিটি নির্বাচন পরিচালনায় কমিশন গঠন করে। পরে গত ২৯ মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন তফসিল ঘোষণা করেন।



