৭ মার্চের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার, ২ মাস পর কারামুক্ত ইমি

সংগৃহীত ছবি
দুই মাস কারাবাসের পর আজ বৃহস্পতিবার মুক্তি পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ (ইমি)। রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভের অভিযোগে ওইদিনই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।
তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছিল। গত ৩০ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন ইমি। এর আগে একবার তার জামিন আবেদন নাকচ করা হয়।
কারামুক্তির বিষয়টি এক ফেসবুক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইমির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহা. নোমান হোসাইন। তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। কারামুক্ত ইমি পাশে থাকা সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’
চলতি বছরের ৭ মার্চ রাত সাড়ে নয়টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানো কর্মসূচি ঘোষণা করেন ইমিসহ কয়েকজন। রিকশায় করে মাইকে ভাষণ বাজানোর সময় ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ, এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল তাতে বাধা দেয়।
একপর্যায়ে এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী রিকশাসহ শেখ তাসনিম আফরোজ ও আবদুল্লাহ আল মামুনকে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। এ সময় থানার ভেতরেই মারধর করা হয় আবদুল্লাহ আল মামুনকে।
পরে পুলিশ তাদের আটক করে রাখে। পরদিন থানা হেফাজতে আটক থাকা আসিফ আহমেদ সৈকতসহ তিনজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শাহবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা করে পুলিশ।
জামিন পেলেন ইমি
৩০ এপ্রিল ২০২৬
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার জামিন চেয়ে ইমির করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রুলসহ জামিনের আদেশ দেন।
আদালতে ইমির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহা. নোমান হোসাইন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আল আমিন।
আইনজীবী মুহা. নোমান হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ দলীয় স্লোগান নয় কিংবা নিষিদ্ধ কিছু নয়। ইমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সারবত্তা নেই। জামিন আবেদনকারী একজন নারী, তিনি ৫৩ দিন ধরে কারাগারে আছেন— মূলত এসব যুক্তিতে জামিন চাওয়া হয়। হাইকোর্ট অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। ফলে তার কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।





