স্থগিত করা হলো ভার্চুয়াল কোর্ট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আইনজীবীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার আশিকুল খবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চেম্বার আদালতসহ আপিল বিভাগে প্রতি সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবার পরিচালতি ভার্চুয়াল পদ্ধতির কোর্ট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।
সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, হাইকোর্ট বিভাগের ভার্চুয়াল পদ্ধতির কোর্টও স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।
এর আগে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি বিবেচনায় সপ্তাহে দুদিন ভার্চুয়াল কোর্ট (সশরীরে উপস্থিত না হয়ে) পরিচালনার সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের সব বেঞ্চে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চলবে বিচারকাজ। বাকি দিনগুলোয় শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে চলবে বিচার কার্যক্রম।
গত ২০ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন থেকেই বিক্ষোভে নামেন আইনজীবীরা। নিয়মিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
মূলত আইনজীবীদের একটা বড় অংশ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মামলা পরিচালনায় অভ্যস্ত নন। অনেকে, বিশেষ করে বয়স্ক আইনজীবীদের একটা বড় অংশ ভালো করে জানেন না তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারও। আবার শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে মামলা পরিচালনা করা যায়, ভার্চুয়ালি তেমনটা সম্ভব হয় না। সংখ্যার বিচারেও ভার্চুয়ালি অনেক কমসংখ্যক মামলা পরিচালনার সুযোগ থাকে। ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলে আইনজীবীদের আয়ে।
আন্দোলনকারীদের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জানিয়েছেন, জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা হলেও এ প্রক্রিয়ায় মূলত জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে না। শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে একটি আদালতকক্ষে সাধারণত ৬০ থেকে ৬৫ জন আইনজীবী উপস্থিত হয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারেন। কিন্তু ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এই ৬০ থেকে ৬৫ জনকে পৃথক জায়গা থেকে আদালতে যুক্ত হতে হয়। বেশিরভাগ আইনজীবী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই অনলাইনে যুক্ত হয়ে থাকেন। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ের চেয়ে আরও বেশি হচ্ছে অপচয়।
বুধ ও বৃহস্পতিবার সাধারণত হাইকোর্টের বেঞ্চগুলোতে মামলার চূড়ান্ত শুনানি হয়ে থাকে। আইনজীবীদের ভাষ্য, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চূড়ান্ত শুনানি করা সম্ভব নয়। কারণ চূড়ান্ত শুনানিতে অনেক রেফারেন্স দেখাতে হয়, বিস্তারিত বলতে হয়, যা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সম্ভব নয়।
আইনজীবী মামুন জানান, সংখ্যার বিচারে অল্পসংখ্যক মামলা শুনানির সুযোগ হয় ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। এতে আইনজীবীদের, বিশেষ করে নবীন আইনজীবীদের আয় কমে গেছে। কারণ আইনজীবী ভবনে অনেক নবীন আইনজীবীর নিজস্ব চেম্বার না থাকায় তারা ঠিকঠাক অনলাইন কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারছেন না।
এর আগে করোনা মহামারীর সময় প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রণয়ন করা হয় ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০।’ সেই আলোকে জারি করা হয় প্র্যাকটিস ডাইরেকশন। কিন্তু সে সময়ও আইনজীবীদের একটা বড় অংশ করেছিলেন বিরোধিতা। ফলে যখনই করোনার প্রকোপ কমেছে, তখনই চালু হয়েছে শারীরিক উপস্থিতিতে কোর্ট।



