ফেনীর এসপির নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান। সংগৃহীত ছবি
দুই হত্যা মামলার আসামিকে ফেনীর এসপি পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছে হাইকোর্টে। আজ বৃহস্পতিবার রিটটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু।
ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে মোহাম্মদ মাহবুব আলম খানের সাম্প্রতিক নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে। স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব এবং ফেনীর বর্তমান পুলিশ সুপারকে (এসপি) বিবাদী করা হয়েছে রিটে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি-পশ্চিম) উপকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান। এর আগে দীর্ঘসময় চাঁপাইনবাবগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি।
রিটে দাবি করা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে মাহবুব আলম খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক হয়রানি, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। পরে এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুটি হত্যা মামলা করা হয়, যেখানে আসামি করা হয়েছে তাকে।
যুবদল নেতা মিজানুর রহমানকে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারে’ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মাহবুব আলম খানকে ১০ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভুক্তভোগীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে যায় এবং পরে পুলিশ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে ও অর্থ দাবি করে পরিবারের কাছে। একপর্যায়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত দেখানো হয় তাকে। একই ঘটনায় রেজাউল করিম নামের আরেক ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে রিটে।
এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় মো. আইনাল হকের করা হত্যা মামলায় আসামি করা হয় মাহবুব আলমকে। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর দায়েরকৃত আরেকটি হত্যা মামলায়ও ৩ নম্বর আসামি তিনি। এই অবস্থায় হত্যা, গুম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পদে বহাল রাখা সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এতে আইনের শাসন, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা ক্ষুণ্ন হয় বলেও দাবি করা হয়েছে রিটে।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিচারাধীন মামলার আসামি হিসেবে মাহবুব আলমের দায়িত্ব পালন তদন্ত প্রক্রিয়া, সাক্ষী ও ন্যায়বিচারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং এতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় রিট আবেদনে ফেনীর এসপি হিসেবে মাহবুব আলম খানের নিয়োগ বা পদায়ন কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারি ছাড়াও তার পদায়ন আদেশ অবিলম্বে বাতিল বা স্থগিত, চলমান হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত ও নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত নিশ্চিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে রিটের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফেনীর এসপি হিসেবে তার দায়িত্ব পালন স্থগিত রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে।
রিটের বিষয়টি নিশ্চিত করে আবেদনকারী অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু বলছিলেন, ‘আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের স্বার্থে গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পুলিশি পদে বহাল রাখা উচিত নয়। জনগণের আস্থা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি।’




