ঢাকা বারে সব পদে জয়ী বিএনপি, জামায়াত-এনসিপির ভরাডুবি

আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া ও মোহাম্মদ আবুল কালাম খান। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে ২৩টি পদের সব কয়টিতে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল)। এতে চার হাজার ৪৮৮ ভোট পেয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং চার হাজার ৪৫ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান। তবে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে) কোনো পদে বিজয়ী হতে পারেনি।
গতকাল শুক্রবার ভোট গণনা শেষে এ ফলাফল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন।
বিজয়ী অন্য প্রার্থীরা হলেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস), সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. এলতুতমিশ সওদাগর (অ্যানি), সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরি সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারজিয়া হীরা, অফিস সম্পাদক মো. আফজাল হোসেন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক এ এস এম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম (শফিক)।
সদস্য পদে বিজয়ী—এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন এবং সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।
এর আগে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুইদিনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে চলে ভোটগ্রহণ। এতে ২০ হাজার ৭৮৫ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছে সাত হাজার ৬৯ জন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে)। উভয় প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ছাড়াও ছিল স্বতন্ত্র আটজন প্রার্থী।
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল সর্বশেষ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আদালতে আসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা। এতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এই পরিস্থিতিতে একই বছরের ১৩ আগস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা। এর পর থেকেই দায়িত্ব পালন করছেন তারা। নির্বাচন পরিচালনায় গঠন করা হয় কমিশন। গত ২৯ মার্চ তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন।



