অটোরিকশাচালককে হত্যায় পাঁচ ডাকাতের মৃত্যুদণ্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় ডাকাতির পর অটোরিকশাচালক মুকুল হোসেনকে হত্যার দায়ে পাঁচ ডাকাতের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এ.বি.এম.আশফাক-উল হক।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সোহেল ওরফে জুয়েল, শাহিন হাওলাদার, সুমন ওরফে আল আমিন, কবির ও ফেরদৌস ওরফে বারেক ওরফে ভাতিজা।
সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবু সেলিম চৌধুরী জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করেছেন আদালত। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে পাঁচ আসামিকে। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- অলি আহম্মেদ, শাহ জাহান মুন্সী, হাসান হাওলাদার, কবির ও জাহাঙ্গীর।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, রায় ঘোষণার আগে শাহিন ও ফেরদৌসকে কারাগার থেকে হাজির করা হয় আদালতে। তাদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন আদালত। এরপর সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় আসামিদের। তবে অপর তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মুকুল হোসেন। ২০২০ সালের ২৭ জুন কেরানীগঞ্জের আটি পাঁচদানা করিম হাজী গ্রাম থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে বাসা থেকে বের হন তিনি। এরপর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পায় পরিবার। রাত দেড়টার দিকে অটোরিকশা মালিক মুকুলের পরিবারকে ফোন করে জানান, তিনি যে অটোরিকশা চালান সেটি মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় একটি গ্যারেজে পড়ে আছে। এরপর ওই গ্যারেজে গিয়ে সাড়ে ৫ হাজার টাকা দিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ে আসে পরিবার। তবে মুকুলকে খুঁজে পাননি তারা।
পরদিন সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা-রাজবাড়ি সড়কের বার্তা ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে মুকুলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন মুকুলের ছোট ভাই আবু হানিফ। থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে গিয়ে ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। আসামিদের মধ্যে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সোহেল, শাহিন, সুমন, কবির ও ফেরদৌস।
ঘটনার তদন্ত শেষ করে ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর ১০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ঢাকা জেলার পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন। ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে শুরু হয় বিচার। এতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৫ সাক্ষী।



