অপহরণ করে শিশু হত্যার ১৮ বছর পর ২ আসামির যাবজ্জীবন

রায় ঘোষণা শেষে আসামি মাসুদ রানাকে কারাগারে নেওয়া হয়
১৮ বছর আগে রাজধানীর কাফরুলে ১১ বছর বয়সী শফিকুল ইসলাম ওরফে মিলনকে অপহরণ করে হত্যার দায়ে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১৪ বছরের কারাদণ্ড আরও একজনকে। খালাস দেওয়া হয়েছে দুজনকে।
আজ রবিবার সকালে এ রায় দেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান।
যাবজ্জীবন পাওয়া দুজন হলেন, আল আমিন ঘরামী ও মাসুদ রানা। কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এই দুজনকে। অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাভোগ করতে হবে দুই আসামিকে।
এই মামলায় অপর আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুলকেও ১৪ বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা করা হয়েছে এক লাখ টাকা। অনাদায়ে তাকেও কারাগারে থাকতে হবে।
আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন আব্দুল মোত্তালেব ওরফে মোতা এবং আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেল।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাশেদুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে।
রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিল মাসুদ রানা। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাকে। অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় আল আমিন ঘরামী ও সাইফুলের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৬ মার্চ খেলার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয় মিলন। এরপর আর বাসায় ফিরেনি সে। ৭ মার্চ থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে মিলনের পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা।
এ ঘটনায় ১৩ মার্চ কাফরুল থানায় অপহরণের মামলা করেন মিলনের বাবা শফিকুল ইসলাম ওরফে শহিদ। কললিস্টের সূত্র ধরে আসামিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, সাভারের রামচন্দ্রপুর কর্ণপাড়া নামের স্থান থেকে মিলনের হাড়, দাঁত, রক্তমাখা পাথর উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মামলায় সংযুক্ত করা হয় হত্যার অভিযোগ।
২০০৯ সালের ৩ অগাস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন কাফরুল থানার এসআই তহিদুল ইসলাম। পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পায় সিআইডি।
তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২৩ মার্চ আল আমিন, মাসুদ রানা, আব্দুল মোত্তালিব, মিসেস রুবিনা খাতুন, সাইফুল ইসলাম, আমিরুল ইসলামদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন সিআইডির ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম সিদ্দিকী।
রুবিনা খাতুনকে বাদ দিয়ে অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল।



