ভার্চুয়াল কোর্ট
তেলের টানাটানিতে আইনজীবীদের পকেটে টান

সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে আইনজীবীদের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের আদালতপাড়ায়ও। পরিস্থিতি বিবেচনায় সপ্তাহে দুদিন ভার্চুয়াল কোর্ট (সশরীরে উপস্থিত না হয়ে) পরিচালনার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। এতেই টান পড়েছে আইনজীবীদের পকেটে।
মূলত আইনজীবীদের একটা বড় অংশ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে মামলা পরিচালনায় অভ্যস্ত নন। অনেকে, বিশেষ করে বয়স্ক আইনজীবীদের একটা বড় অংশ ভালো করে জানেন না তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারও। আবার শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে মামলা পরিচালনা করা যায়, ভার্চুয়ালি তেমনটা সম্ভব হয় না। সংখ্যার বিচারেও ভার্চুয়ালি অনেক কমসংখ্যক মামলা পরিচালনার সুযোগ থাকে। ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রভাব ফেলছে আইনজীবীদের আয়ে। আর এতেই ক্ষিপ্ত তারা।
প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে বুধ ও বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের সব বেঞ্চে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে চলবে বিচারকাজ। বাকি দিনগুলোয় শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে চলবে বিচার কার্যক্রম।
গত ২০ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন থেকেই বিক্ষোভে নেমেছেন আইনজীবীরা। ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। বুধবারের এক সমাবেশে দেওয়া হয় হুঁশিয়ারি, বৃহস্পতিবারের মধ্যে ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে, চলবে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি।
আন্দোলনকারীদের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেছেন, ‘জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা বলে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা হলেও এ প্রক্রিয়ায় মূলত জ্বালানি সাশ্রয় হচ্ছে না। শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে একটি আদালতকক্ষে সাধারণত ৬০ থেকে ৬৫ জন আইনজীবী উপস্থিত হয়ে মামলা পরিচালনা করতে পারেন। কিন্তু ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে এই ৬০ থেকে ৬৫ জনকে পৃথক জায়গা থেকে আদালতে যুক্ত হতে হয়। বেশিরভাগ আইনজীবী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসেই অনলাইনে যুক্ত হয়ে থাকেন। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ের চেয়ে আরও বেশি হচ্ছে অপচয়।’
বুধ ও বৃহস্পতিবার সাধারণত হাইকোর্টের বেঞ্চগুলোতে মামলার ফাইনাল হিয়ারিং হয়ে থাকে। এই আইনজীবীদের ভাষ্য, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে ফাইনাল হিয়ারিং করা সম্ভব নয়। কারণ ফাইনাল হিয়ারিংয়ে অনেক রেফারেন্স দেখাতে হয়, বিস্তারিত বলতে হয়, যা ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সম্ভব নয়।
আইনজীবী মামুন জানান, সংখ্যার বিচারে অল্পসংখ্যক মামলা হিয়ারিং করার সুযোগ হয় ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। এতে আইনজীবীদের, বিশেষ করে নবীন আইনজীবীদের আয় কমে গেছে। কারণ আইনজীবী ভবনে অনেক নবীন আইনজীবীর নিজস্ব চেম্বার না থাকায় তারা ঠিকঠাক অনলাইন কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারছেন না।
এর আগে করোনা মহামারীর সময় প্রথমবারের মতো সুপ্রিম কোর্টে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রণয়ন করা হয় ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০।’ সেই আলোকে জারি করা হয় প্র্যাকটিস ডাইরেকশন। কিন্তু সে সময়ও আইনজীবীদের একটা বড় অংশ করেছিলেন বিরোধিতা। ফলে যখনই করোনার প্রকোপ কমেছে, তখনই চালু হয়েছে শারীরিক উপস্থিতিতে কোর্ট।



