মানবিক বিবেচনায় দেড় মাসের শিশুর মা যুব মহিলা লীগ নেত্রীর জামিন

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর ৪ ঘণ্টা পর জামিন দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার শুনানি শেষে মানবিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
এর আগে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তার জামিন নামঞ্জুর করে দেড় মাস বয়সী সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানসহ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।
এদিন দুপুর ২টার দিকে আসামি শিল্পীকে হাজির করা হয় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে।
আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম।
তার আগে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও থানার রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শিল্পীকে। এরপর করা হয়েছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে জানা গেছে তদন্তে। মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে আটক রাখা বিশেষ প্রয়োজন।
শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে আদালত থেকে বের করা হয় তাকে। এ সময় আদালতের চতুর্থতলায় কাঁদতে থাকেন তিনি। পরে তার কোলে তুলে দেওয়া হয় দেড় মাস বয়সী সন্তান। আদালতের বারান্দায় রাখা বেঞ্চে বসিয়ে সন্তানকে দুধ খাওয়ান। এরপর শিশুকে কোলে নিয়ে আসামি শিল্পীকে নেওয়া হয় আদালতের হাজতখানায়। এ সময় আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে বাচ্চাসহ যেতে হচ্ছে কারাগারে৷’
মামলা সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিনি একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য।
চিকিৎসা চলাকালে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী হামলা চালায় তাদের ওপর। পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরাসহ আরও অজ্ঞাতনামা ১২০-১৩০ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র এবং পিস্তল, বোমা নিয়ে হামলা চালায় ওই শিক্ষার্থীর বাসায়।
তারা আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এতে ক্ষতি হয় ৫ লাখ টাকার। বাসা থেকে লুটপাট করা হয় ৩ লাখ টাকা মূল্যের মালামাল। বাসার সামনে রাস্তার ওপর করা হয় বোমা বিস্ফোরণ।
আসামি শিল্পী ও অন্য আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. সোহেল রানাকেও করেন এলোপাতাড়ি মারধর। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি মামলা করা হয় তেজগাঁও থানায়।




