শিল্পকলায় পিঠা উৎসব ও বৈশাখী মেলা শুরু

ছবি: আগামীর সময়
আবহমান বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ পিঠা, পুলি ও পায়েসসহ নানা মুখরোচক খাবারকে নাগরিক জীবনের মানুষের সামনে তুলে ধরতে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসব। ১৮ বছরের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এ উৎসবের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বাংলা ১৪৩৩-এর বৈশাখী মেলা।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুক্রবার সন্ধ্যায় উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠান সূচনা হয় শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে। বিশেষ অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী আমানুল হক।
‘পিঠা বাংলাদেশের ঐতিহ্য, যা নাগরিক জীবনে ক্রমেই হারিয়ে যাওয়ার পথে। জাতীয় পিঠা উৎসব উদযাপন পরিষদ আমাদের লোকায়ত সংস্কৃতির এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানকে শহরের মানুষের সামনে তুলে ধরছে—এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। দেশীয় সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃত করতে এ ধরনের আয়োজন বাড়ানো প্রয়োজন’—বলছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী।
উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ চৌধুরী ও রফিকুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শাহ আলম।
উদ্বোধনের আগে অতিথিদের নিয়ে একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে লাঠিখেলা উপভোগ করলেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রায় ৫০টি স্টলে সাজানো এবারের উৎসবে পিঠা তৈরির পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে পিঠা, পুলি, পায়েসসহ বিভিন্ন দেশীয় খাবার। বৈশাখী মেলার অংশ হিসেবে পিঠার পাশাপাশি স্থান পেয়েছে চারু ও কারুশিল্প, হস্তশিল্প, কুটিরশিল্প ও মৃৎশিল্পের নানা পণ্যের স্টল।
শিশুদের জন্য নির্ধারিত চত্বরে রয়েছে নাগরদোলা, বায়োস্কোপসহ বিভিন্ন বিনোদন আয়োজন। এছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে নাচ, গান, আবৃত্তি ও নাটকসহ পরিবেশিত হবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আগামী ৩ মে পর্যন্ত চলবে এই দশ দিনব্যাপী পিঠা উৎসব ও বৈশাখী মেলা।



