বাহাদুর শাহ পার্কে স্রোতের মে দিবসের অনুষ্ঠান বাতিল হলো কেন

অনুমতি নেওয়ার পরও পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে মে দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেনি স্রোত আবৃত্তি সংসদ। তাদের দাবি, ‘প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংঘাত তৈরি’ করতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনুষ্ঠানটি করতে দেয়নি পুলিশ। ফলে বাধ্য হয়েই সেটি সরিয়ে নিতে হয় ঐতিহ্যবাহী লালকুঠি প্রাঙ্গণে।
শুক্রবার (১ মে) দেশের অন্যতম এই আবৃত্তি সংগঠনের সঙ্গে এসব ঘটনা ঘটে। শনিবার (২ মে) রাতে লিখিত বক্তব্যে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে স্রোত।
গত বছরও বাহাদুর শাহ পার্কে মে দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল সংগঠনটি। এর ধারাবাহিকতায় এবারও একই পরিকল্পনা করা হয়। এজন্য নেওয়া হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক অনুমতি। নিরাপত্তা ছাড়পত্র দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), লালবাগ থানা ও সূত্রাপুর থানা। সে অনুযায়ী মহড়াসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নেন স্রোতের সদস্যরা।
লিখিত বক্তব্যে স্রোত জানিয়েছে, সব ধরনের ছাড়পত্র নেওয়ার পরও ‘একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংঘাত তৈরির আশঙ্কায়’ ডিএমপি কর্তৃপক্ষ বাহাদুর শাহ পার্কে পহেলা মে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
‘পরে প্রশাসনের পরামর্শে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের আন্তরিক সহযোগিতায় ঐতিহ্যবাহী লালকুঠি প্রাঙ্গণে মহান মে দিবস ২০২৬-এর অনুষ্ঠান আয়োজন করে স্রোত।’
চূড়ান্ত মুহূর্তে স্রোতের অনুষ্ঠান বাতিলের এমন ঘটনা গত বছরও ঘটেছিল। সে বছর ৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘রবীন্দ্র স্মরণ দ্রোহে, জাগরণে রবীন্দ্রনাথ’ শীর্ষক কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল সংগঠনটি। তবে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী সাংস্কৃতিক মৈত্রী’র ব্যানারে জড়ো হওয়া একদল ব্যক্তির আপত্তির মুখে বাতিল হয় সেটি। অবশ্য বাহাদুর শাহ পার্কে গত বছরের মে দিবসের অনুষ্ঠান যথাযথভাবেই আয়োজন করা গিয়েছিল।
এবার কেন বাতিল
এবার কেন বাহাদুর শাহ পার্কে অনুষ্ঠান করা গেল না— সে প্রশ্ন ছিল স্রোত আবৃত্তি সংসদের সভাপতি মাহফুজ মাসুমের কাছে।
আগামীর সময়কে তিনি বলছিলেন, ‘আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং ডিএমপি থেকে যথাযথভাবে অনুষ্ঠান করার জন্য অনুমতি নিয়েছিলাম। অনুষ্ঠানের দুই দিন আগে থানা থেকে আমাদের জানানো হয়, বাহাদুর শাহ পার্ক রক্ষা কমিটি থেকে আবেদন করা হয়েছে, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য সেখানে করতে চায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরে অনুষ্ঠানের দিন সকালে আমরা অনুষ্ঠানটি স্থানান্তর করি লালকুঠিতে।’
স্রোত লিখিত বক্তব্যে ‘একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংঘাত তৈরির আশঙ্কায় ডিএমপি শেষ পর্যন্ত ওই স্থানে ১ মে তারিখে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে’ বলে জানালেও পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা।
সূত্রাপুর থানার ওসি মতিউর রহমান জানালেন, পুলিশের দিক থেকে কাউকে অনুষ্ঠান করতে বাধা দেওয়া হয়নি। তিনি বলছিলেন, ‘যেহেতু দুটি অনুষ্ঠান একই সময়ে করার জন্য আবেদন এসেছে। আমরা আয়োজকদের বলেছিলাম, নিজেরা সমন্বয় করে অনুষ্ঠান করতে।’
এ বিষয়ে মাহফুজ মাসুম বললেন, ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ থিয়েটারের খন্দকার শাহ আলম ভাই আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা তাদের একই মঞ্চে আগে/পরে ব্যানার পরিবর্তন করে অনুষ্ঠান করার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। তারা সম্মত হননি।’
অবশ্য শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যও বাহাদুর শাহ পার্কে অনুষ্ঠান করেনি। তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের তোপখানা রোডের সত্যেন সেন চত্বরে করেছিল এ আয়োজন।
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক জামসেদ আনোয়ার তপনের সঙ্গে কথা হয় আগামীর সময়ের।
তিনি বলছিলেন, ‘আমরা বাহাদুর শাহ পার্কে মে দিবসের অনুষ্ঠান আয়োজন করতে চেয়েছিলাম। পরে জেনেছি, সেখানে আগেই স্রোত অনুমতি নিয়েছে। পুলিশ থেকে আমাদের বলা হয়েছিল, নিজেরা সমন্বয় করে অনুষ্ঠান করতে। আমাদের পক্ষ থেকে খন্দকার শাহ আলম তাদের সঙ্গে আলাপ করেছে।’
তবে সেই আলাপেও কোনো সমন্বয় সম্ভব না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য তোপখানা রোডের সত্যেন সেন চত্বরে অনুষ্ঠান আয়োজন করে, জানান তিনি।
স্রোতও পরে লালকুঠিতে আদি ঢাকা সাংস্কৃতিক জোটের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বলে জানান জোটের সভাপতি মানস বোস বাবুরাম।



