ডিজেলের দামে লাফ
বাস, লঞ্চের পর ট্রেনও চলেছে বাড়তি ভাড়ার পথে
- প্রস্তাব উঠছে ট্রেনের ভাড়া ৫০% পর্যন্ত বাড়ানোর

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বিশ্ব জুড়ে সরবরাহ সংকটের মধ্যে দেশের বাজারে দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলের, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনে। ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর আজ বৃহস্পতিবার বাসের ভাড়া সমন্বয় করেছে সরকার। এখন ট্রাক বা লঞ্চের মতো যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের অন্যান্য ডিজেলচালিত যানেও ভাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়ার অপেক্ষা। যদিও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরদিন থেকেই বাড়তি ভাড়া আদায় হচ্ছে বিভিন্ন পথে। এরই ধারাবাহিকতায় বাসের পর এবার বাড়ার প্রস্তাব উঠতে যাচ্ছে ট্রেনের ভাড়াও।
রেলপথের ভাড়া ৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো উচিত বলে মনে করছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেন। জ্বালানির খরচ বেড়েছে অনেকাংশে। ট্রেনের ভাড়া সমন্বয় না হলে লোকসানের সঙ্গে ভারী হবে ঋণের বোঝা। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয় না করলে লোকসানের বোঝা বহন অসম্ভব হয়ে পড়ছে— আগামীর সময়ের সঙ্গে আলাপনে এমনটিই জানালেন রেলওয়ের ডিজি।
রেল কর্তাদের তথ্য, ট্রেন চলতে দিনে প্রয়োজন হয় অন্তত ১ লাখ লিটার ডিজেল। লিটারপ্রতি ১৫ টাকা দাম বাড়ায় শুধু তেল বাবদ দিনে খরচ বেড়েছে ১৫ লাখ টাকা। ঈদের দিন ছাড়া সাধারণত বন্ধ হয় না ট্রেন চলাচল। এ ক্ষেত্রে বছরে ট্রেন চালাতে ডিজেলের জন্য খরচ বাড়বে ৫৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
সামগ্রিক বিষয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা বললেন ডিজি আফজাল। তার ভাষ্য, ‘ভাড়া বাড়বে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তবে ভাড়া না বাড়লে ভারী হবে রেলের ঋণের বোঝা।’
‘এসি যদি বাদ দিই আর এই সেবার যাত্রীও খুব বেশি নয়। যাত্রীর সংখ্যা শোভনে বেশি। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বাসের তুলনায় ট্রেনে ভাড়া অর্ধেক। ৪০০ টাকার ভাড়া ৬০০ হওয়া দরকার’— উদাহরণ টানলেন রেলের এই সর্বোচ্চ কর্তা।
রেলের লোকসানের তথ্য দিয়ে মহাপরিচালক জানালেন, আগে যেখানে তেলের বিল বাবদ রেলের বকেয়া ছিল ১০০ কোটি টাকা, এখন তা ৩০০ কোটি ছুঁয়েছে। এই অর্থ এখন পরিশোধ করা অসম্ভব। এ জন্য আগামী অর্থবছরের অতিরিক্ত বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছে রেলওয়ে।
এদিকে রেলওয়েকে তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। আগে যে পরিমাণ তেল দেওয়া হতো, তার চেয়ে এখন প্রতি কিস্তিতে ১০ শতাংশ করে পরিমাণ কমছে। চাহিদা মেটাতে মজুদে হাত দিচ্ছে রেলওয়ে। এভাবে আর ১৫ দিন চললে মজুদেও পড়বে টান।
আর আগে যেখানে তেলের বিল বাবদ রেলওয়ের বকেয়া ছিল ১০০ কোটি টাকা, এখন তা ৩০০ কোটি ছুঁয়েছে। এই টাকা বর্তমানে পরিশোধ করাও রেলের পক্ষে সম্ভব নয়। আগামী অর্থবছরের বাজেট থেকে বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। তাই এবার বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ চাইবে রেলওয়ে।
বাস ও লঞ্চে ভাড়া নিয়ে অস্থিরতা
জ্বালানির দাম বাড়ার পর থেকেই বাস ও লঞ্চ মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। যদিও সরকার থেকে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবু মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা গেছে এক বিশৃঙ্খল চিত্র। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করেই বাড়তি টাকা আদায় করছেন পরিবহনকর্মীরা। বাস ও লঞ্চে বাড়তি ভাড়া দাবি করা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কন্ডাক্টর ও স্টাফদের নিয়মিত বাগবিতণ্ডা এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই পরিবহন মালিকরা পকেট কাটছেন। অন্যদিকে পরিবহনকর্মীদের দাবি, বাড়তি দামে তেল কিনে আগের ভাড়ায় গাড়ি চালানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো দ্রুত ভাড়া বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারির জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সরকার শেষ পর্যন্ত রেল, বাস ও লঞ্চের ভাড়া কতটা সমন্বয় করে।



