এলডিসি উত্তরণ
চূড়ান্ত সুপারিশের আগে বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের কমিটি
- তিন বছর সময় চেয়েছে বাংলাদেশ
- ঝুঁকি, প্রস্তুতি, করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে রবিবার
- এনইসিতে বৈঠক করবে বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ অংশীজনরা

সংগৃহীত ছবি
এ মুহূর্তে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ করতে চায় না বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৩ বছর সময়ও চাওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সুপারিশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত, ভূবেষ্টিত উন্নয়নশীল ও ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর উচ্চ প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএন-ওএইচআরএলএলএস)।
আগামীকাল রবিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সন্মেলন কক্ষে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৈঠকে এলডিসি উত্তরণ পেছানোর ফলে যে ঝুঁকি তৈরি হবে তা আলোচনার পাশাপাশি, সম্ভাবনা, সমস্যা, প্রস্তুতি ইত্যাদি বিষয় মতামত নেওয়া হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে বিশেষ অতিথি থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, ইউ-এনওএইচআরএলএলএসের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
এ প্রসঙ্গে ইআরডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে আগামীর সময়। তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে জাতিসংঘের ইউএনওহরলাস সম্প্রতি একটি ইনডিপেনডেন্ট গ্রাজুয়েশন রেডিনেস অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা করেছে। এর প্রধান দিকগুলো সংশ্লিষ্টদের সামনে উপস্থাপনের জন্যই এ বৈঠক।
এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ যে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর আবেদন করেছে সেটি নিয়ে কাজ করছে জাতিসংঘের এ কমিটি। তারা চূড়ান্ত সুপারিশ করবে ওপরের দিকে। তার আগে তাদের অ্যাসেসমেন্টে উঠে আসা বিষয় নিয়ে সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ের অংশীজনদের মতামত নিতে যাচ্ছে। বৈঠকটি দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র জানায়, এর আগে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নিয়ে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সালে নির্ধারণের আবেদন করে। আবেদনে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে, তৈরি পোশাক খাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জটিলতা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তির পরিবর্তন ও প্রতিযোগী দেশগুলোর নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি।
আবেদনে আরও বলা হয়, শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি সংস্কার, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, শিল্প-কারখানার কমপ্লায়েন্স অবকাঠামো উন্নয়নের অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু একের পর এক সংকটের কারণে তা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে আছে। একের পর এক দেশি ও আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে এলডিসি উত্তরণে পাঁচ বছরের প্রস্তুতি সময়কাল ব্যাহত হয়েছে গুরুতরভাবে।
দেশি সংকটের মধ্যে আছে— আর্থিক খাতে অনিয়ম, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিষ্পত্তি না হওয়া ইত্যাদি। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে রয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যবাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কড়াকড়ি, বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে বিলম্ব, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা।

