জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষায় বিল পাস হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ‘জুলাই যোদ্ধা’দের ইনডেমনিটি তথা আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে সংসদে বিল পাস করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানিয়েছেন তিনি। সংসদে সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, জুলাই আন্দোলনে পুলিশ বাহিনীর চালানো হত্যাযজ্ঞ ও নিপীড়নের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না। এছাড়া, আগস্টের ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ বর্তমানে ‘পুলিশ হত্যা’ নামক যে ফ্রেম দাঁড় করিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে বিশৃঙ্খলা ও অস্পষ্টতা তৈরির চেষ্টা করছে, তা নিরসনে মন্ত্রণালয়ের কোনো উদ্যোগ আছে কি না?
উত্তরপর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি দেওয়ার বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার পুনর্ব্যক্ত করেন। ‘জুলাই যোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য গঠন করা হয়েছে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি। সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করে পাস করার বিষয়ে একমত হয়েছেন সবাই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আওয়ামী চক্রান্তকারী গোষ্ঠী’র বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রীর ভাষ্য, গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালিয়েছে, জনতার প্রতিরোধের মুখে তাদের কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে। ওটা ছিল একটি রণক্ষেত্র। সেখানে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই জারি করা হয়েছে এই অধ্যাদেশ। এ বিষয়ে সারাদেশের মানুষ একমত।
‘পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের স্পেসিফিক মামলা হয়েছে। কিছু মামলা আইসিটি আইনে এবং কিছু সাধারণ আইনের অধীনে রয়েছে আদালতে। এগুলোর তদন্ত ও চার্জশিট প্রদানের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছে এবং তা টেলিভিশনে লাইভ সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে,’- বলছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ আরো বলেছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যারা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে-তারা পুলিশের পোশাক পরুক অথবা যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হোক, যে বাহিনীর পোশাকই পরুক না কেন, তারা সবাই অপরাধী। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। যদি কারও বিরুদ্ধে মামলা না হয়ে থাকে, তবে আপনারা দায়ের করবেন। প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং বিচার বিভাগ যথাযথভাবে এর বিচার করবে।

