সংসদে আইনমন্ত্রী
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে সচেতন সরকার

সংগৃহীত ছবি
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে সরকার। এসব মামলার ভুক্তভোগীদের প্রতিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে মাগুরা-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মনোয়ার হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী জানান, অতীত সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো পর্যালোচনা করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে প্রত্যাহারের। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এ ধরনের মামলা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠন করেছিল একটি কমিটি। সেই কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।
বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি জানান, চলতি বছরের ৫ মার্চ জেলা পর্যায়ে গঠন করা হয় চার সদস্যের একটি কমিটি। যার নেতৃত্বে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক। রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই করে সুপারিশ প্রদান করছে এই কমিটিগুলো।
এর ধারাবাহিকতায় ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয়েছে ছয় সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি। জেলা পর্যায় থেকে আসা সুপারিশগুলো এই কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।
আইনমন্ত্রী জানান, সংসদ সদস্যসহ যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলার ক্ষেত্রে আবেদন করতে হবে যথাযথ প্রক্রিয়ায়। এমনকি হত্যা মামলার ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোয্য। পরবর্তী সময়ে এসব আবেদন যাচাই করা হবে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলার কারণে যারা ভুক্তভোগী হয়েছেন, তারা ন্যায়বিচার পাবেন। এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
অধস্তন আদালতে ঝুলে আছে ৪০ লাখের বেশি মামলা
গত বছর নাগাদ দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে মোট ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে আইনমন্ত্রী।
মামলার জট কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে সৃজন করা হয়েছে ৮৭১টি নতুন আদালত স্থাপন এবং ২৩২টি বিচারকের পদ। পাশাপাশি আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলমান।
এ ছাড়া বিচার বিভাগে জনবল বাড়াতে নতুন করে ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। প্রশাসনিক সহায়তা জোরদারে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে স্টেনো-টাইপিস্ট, স্টেনোগ্রাফার, অফিস সহায়ক ও চালকের মতো বিভিন্ন শূন্য পদে ৭০৮ জন নিয়োগে করা হয়েছে সুপারিশ। এর বাইরে আরও ৫৫৩টি পদে নিয়োগ কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন।



