হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ‘জরুরি পরিস্থিতি’ ঘোষণার দাবি

সংগৃহীত ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার এবং হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ‘জরুরি পরিস্থিতি’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন।
আজ মঙ্গলবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক অনিন্দ্য দ্বীপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ দাবি।
যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু উল্লেখ করেন, হামের টিকা ক্যাম্পেইনে চরম অবহেলা ও ব্যর্থতার ফলে দেশে গভীর জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তিন শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।
নেতারা জানালেন, মার্চের শেষ নাগাদ হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও এখনো সরকার সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ও জোরালো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ। তারা এই বিপর্যয়ের জন্য বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম এ ক্ষেত্রে চরম অবহেলা দেখিয়েছেন। শিশুদের জীবন সুরক্ষাকে উপেক্ষা করে টিকা ক্রয় সংক্রান্ত নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তন আনার ফলে হামের টিকার কৃত্রিম সংকট তৈরি হয় এবং তা দ্রুত মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ছাড়া টিকা ক্রয় নীতিতে পরিবর্তনের সময় আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের একাধিক সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও সরকার তা উপেক্ষা করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে উল্লেখ করে যুব ইউনিয়ন।
সংগঠনটি জানায়, এত শিশুর মৃত্যুর পরও সরকার এখনো এ পরিস্থিতিকে ‘জরুরি’ হিসেবে ঘোষণা করেনি এবং প্রয়োজনীয় জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। অপ্রতুল চিকিৎসার কারণেও শিশুমৃত্যু বাড়ছে বলে তাদের ধারণা।
যুব ইউনিয়নের দাবি
হামের টিকা কর্মসূচিতে ব্যর্থতার জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূস, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ দায়ী সবার ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। অবিলম্বে হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘জরুরি পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং চিকিৎসা কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করে শিশুদের জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।



