পরিকল্পনা কমিশনের নাকের ডগায় অপরিকল্পিত ব্যয়

গ্রাফিক্স: আগামীর সময়
যে কমিশনের কাজ সরকারি সম্পদের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা, তাদের মূল দপ্তরের সড়কের কাজ নিয়েই হয়েছে নয়ছয়। এমনভাবে সড়ক সংস্কার করা হয়েছে যে, এক মাস না যেতেই রোদের তাপে গলে যাচ্ছে পিচ। উঠে আসছে গাড়ির চাকার সঙ্গে। বলছি পরিকল্পনা কমিশন, ঢাকার শেরেবাংলা নগরে তাদের প্রধান কার্যালয়ের সামনের চত্বর ও সড়ক, আর সেই সড়ক সংস্কারে ব্যয় হওয়া ২০ লাখ টাকার কথা।
গত ৬ এপ্রিল সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের দিন ঠিক ছিল। কথা ছিল, এতে অংশ নিতে পরিকল্পনা কমিশনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আসবেন শুনেই শুরু হয়ে গিয়েছিল সাজ সাজ রব। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কমিশনের ভেতরের প্রায় ২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা চত্বর ও রাস্তার ওপর করা হয়েছিল কার্পেটিং আর রোড মার্কিং। পরে অবশ্য সেই ঝকঝকে রাস্তা ধরে পরিকল্পনা কমিশনে যাননি প্রধানমন্ত্রী, সচিবালয়েই হয় বৈঠকটি।
কিন্তু মুশকিল হলো, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সাজানো এই পথের পিচ গত কয়েক দিনের গরমে গলতে শুরু করেছে। পরিকল্পনা কমিশনে এখন যে গাড়িই ঢুকছে, তার চাকার সঙ্গে উঠে যাচ্ছে পিচ, আর রাস্তায় সৃষ্টি হচ্ছে গর্ত। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী আপাতত আর যাচ্ছেন না, তাই সড়কের এই দশা নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা আছে বলেও মনে হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কার্পেটিংয়ের কাজটি করেছিল গণপূর্ত অধিদপ্তর। তো তাদের কাছেই জানতে চাওয়া হলো, কেন রাস্তার এ বেহাল দশা? অবশ্য অধিদপ্তর বলছে, এটি কার্পেটিং নয়। এ কাজের নাম সিলকোট। অবশ্য কার্পেটিং হোক আর সিলকোট, মেরামতের এক মাস না পেরোতেই তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অর্থই হলো কাজ ঠিকমতো হয়নি, এমনটিই মত সংশ্লিষ্টদের।
শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত উপবিভাগ-৩-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মাসুম বিল্লাহ আগামীর সময়কে বললেন, ‘এ কাজটি আমরা করতেই চাইনি। কারণ রাস্তাগুলো কার্পেটিং করার দরকার ছিল। তার জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার সংস্থান না থাকায় আমরা বলেছি এটা করা যাবে না। কিন্তু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুরোধে বাধ্য হয়েই একজন ঠিকাদারকে দিয়ে কাজ করা হয়েছে।’
কেন পিচের স্তর উঠে যাচ্ছে— জানতে চাইলে তিনি বললেন, পুরনো রাস্তায় নতুন সিলকোট দেওয়ায় এ রকম হয়ে থাকতে পারে। তার দাবি, এ কাজে কোনো দুর্নীতি করা হয়নি।
মাসুম বিল্লাহ জানালেন, সিলকোট দিতে ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে এটি কতটুকু টেকসই হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা তিনি দিতে পারেননি। শুধু এটুকু বললেন, ‘রাস্তা একেবারে ভেঙেও যাবে না।’
পরিকল্পনা কমিশনের ভেতরের এই সড়ক মেরামতে কত টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল, তা জানতে চাই পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) মো. গোলাম মোছাদ্দেকের কাছে। তিনি জানালেন, কার্পেটিং করতে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছিল গণপূর্ত উপবিভাগ। ‘আমরা তা দিতে পারিনি। তবে বারবার অনুরোধ করার পর যেভাবে কাজ করেছে, সেটি ভালো হয়নি। এটি টেকসই করা উচিত ছিল। যদিও তারা জানিয়েছিল, তাদের কাছেও টাকা ছিল না। এটা একধরনের অপচয় হলেও করার কিছুই ছিল না’— যোগ করলেন অতিরিক্ত সচিব।
রাস্তাগুলো মানসম্মতভাবে সংস্কার করতে বারবারই বলেছেন জানিয়ে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকির আকতার বললেন, ‘বারবার বলার পরও তারা সেটি করেনি। এটি খুবই দুঃখজনক।’




