মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার

ফাইল ছবি
মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ শুরু করেছে সরকার। সেই লক্ষ্যে শহর ও গ্রামে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে—জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে এক বার্তায় এ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকারকে সামনে রেখে আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিবসটি উদযাপিত হবে বাংলাদেশেও। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সব প্রাণ’।
ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশই নিয়োগ পাবেন নারী। এছাড়া প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড, দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা চালু করা, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান উন্নয়ন ও চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার, স্বাস্থ্যবিমা চালু ও ধীরে ধীরে বিস্তার, জোরদার করা হবে চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায়।
‘সেবাগ্রহীতা ও সেবাদাতার জন্য ন্যায়সঙ্গত আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ দেওয়া হবে জিডিপির ৫ শতাংশ’
মানুষ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের তাগিদ দেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশ-এই তিনটি উপাদান পরস্পরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এদের নিরাপত্তা এবং সুস্থতা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। এজন্য সব প্রাণের সুরক্ষা আজ সময়ের দাবি। এটাই এক স্বাস্থ্য ধারণা, যা মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তার চারপাশের প্রাণিকুল ও পরিবেশের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় সমান তাগিদ দেয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানকে সমন্বিত করে গবেষণা ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের দ্রুত অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আমাদের দেশে প্রান্তিক অঞ্চল ও দরিদ্র বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই, মানসম্পন্ন ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কিংবা মেশিন লার্নিং (এমএল)-এর মতো উৎসাহিত করতে হবে প্রযুক্তির উদ্ভাবন, ব্যবহার ও প্রসারকে।
‘বিএনপি সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির ভিত্তিতে উন্নত কল্যাণকামী রাষ্ট্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার আলোকে সবার জন্য সহজ ও সুলভ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কারণ, স্বাস্থ্যসেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার’—যোগ করেন তারেক রহমান।
‘সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব সম্মিলিতভাবে পালন করলে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে সক্ষম হব’—প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।



