হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে এক জাহাজেই ৬৮ কোটি টাকা

সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রথমবার সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল চট্টগ্রাম পৌঁছেছে বুধবার। ঘুরপথে চ্যালেঞ্জ নিয়ে জাহাজে এই তেল আনতে বাড়তি পরিবহন খরচ পড়েছে ৬৮ কোটি টাকা!
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ উত্তেজনার মধ্যে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি, এই রুটে জাহাজ সংকট এবং নাবিকদের বাড়তি প্রিমিয়াম দিয়েই এই তেল এনেছে সরকারি শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। তাদের ভাষ্য, এই মুহূর্তে তেল সরবরাহ দেওয়াই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে বিকল্প পথে এই তেল আনা হয় বলে জানান বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক। তার মতে, 'প্রথমবার হরমুজ এড়িয়ে এই রুট দিয়ে তেল আনা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমরা সফল হয়েছি।'
বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবহন খরচের হিসাব না বললেও বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, যুদ্ধের আগে ট্যাক্সসহ প্রতি টন তেল পরিবহনে খরচ হতো ৫৫ ডলার। এখন হচ্ছে টনপ্রতি ১১০ ডলার। অর্থাৎ প্রতি টনে ৫৫ ডলার বাড়তি খরচ হয়েছে। সে হিসাবে এক লাখ টন তেল আনতে ৬৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৫ টাকা) বাড়তি খরচ হয়েছে।
উন্নয়ন বরাদ্দে উচ্চাভিলাষ
০৭ মে ২০২৬
এই অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পেয়ে প্রাণ ফিরেছে তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির। কাঁচামাল না পেয়ে গত ১৪ এপ্রিল থেকে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানের তেল পরিশোধন কাজ প্রায় বন্ধ ছিল। কুতুবদিয়া এলাকার সাগরে পৌঁছা ‘এমটি নিনেমিয়া’ জাহাজ থেকে বৃহস্পতিবার সেই তেল স্থানান্তর করে ছোট জাহাজে পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হচ্ছে। শুক্রবার সকাল থেকে তেল পরিশোধন পুরোদমে শুরু হবে। আর পরিশোধিত তেল দিয়ে দেশের চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ হবে।
ইস্টার্ন রিফাইনারিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিদেশ থেকে আনে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। আর তেল কেনার দায়িত্ব বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। চট্টগ্রামে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দর এবং আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর থেকে। বিএসসি বিদেশি জাহাজ ভাড়া করে দুটি বন্দর থেকে তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনত হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে এই রুট দিয়ে জ্বালানি তেল আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকা পড়েছে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ।
তিনি জানান, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে পরবর্তী তেলের জাহাজ আসারও প্রক্রিয়া চলছে। একইসাথে আরব আমিরাত থেকে হরমুজ এড়িয়ে ফুজাইরা বন্দর থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আনা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প পথেই তেল আনা হবে। যে তেল ইস্টার্ন রিফাইনারি পুরোদমে সচল হয়ে দেশের যোগান দেবে।
বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আনতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি পরিবহন খরচ হয়েছে, যোগ করেন কমডোর মাহমুদুল মালেক। 'কত টাকা বাড়তি খরচ হলো সেটি এখন বলার বিষয় নয়। আমি বলতেও পারবে না। আমার চেষ্টা ছিল সংকটের সময় তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা।'
ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন ১৪ এপ্রিল বন্ধ হয়ে গেলে সরকার আন্তর্জাতিক স্পটমার্কেট থেকে চড়াদামে রিফাইন্ড বা পরিশোধিত তেল কিনে আনে। চড়াদামে তেল কিনতে সরকারকে বিপুল ভর্তূকি দিতে হচ্ছে। এখন বেশি পরিবহন খরচে আনা অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে সরবরাহ দেয়া সরকারের জন্য সাশ্রয়ী-লাভজনক।
বিপিসির এক কর্মকর্তা হিসাব কষে বলছেন, ‘চড়াদামে তেল কিনে বাজারে সরবরাহ দেয়ার চেয়ে বেশি পরিবহন খরচ করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তেল বিক্রি করলে সরকারের অন্তত লিটারে ৩০ টাকা সাশ্রয় হবে। কারণ ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য কেনা তেল আগের দামেই পাচ্ছে সরকার। শুধু পরিবহন খরচ বাড়তি।'





