সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না : প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদের সফলতা মানেই দেশের সফলতা। তাই কোনোভাবেই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। স্থিতিশীল সরকার ও কার্যকর সংসদ ছাড়া সম্ভব নয় দেশের অগ্রগতি।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদকে অকার্যকর হওয়া থেকে রক্ষা করতে সব সংসদ সদস্যকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে দেশের মানুষ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিরা। আলোচনা ও মতবিনিময় চলবে, তবে কোনোভাবেই ব্যাহত হওয়া উচিত নয় সংসদের কার্যকারিতা।
তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। অতীতে দীর্ঘ সময় হরতালের কারণে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার প্রভাব রয়েছে এখনো। তাই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
বিরোধী দলের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, ‘আপনি ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে ব্যর্থ হবে পুরো বাংলাদেশ। এই সংসদ দাঁড়িয়ে আছে হাজারো শহীদের রক্তের ওপর। দেশের স্বার্থে সবসময় বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতে রাজি আছি আমরা।’
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে দেশ। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।
শিক্ষা খাতে পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি, ‘আগামী জুলাই থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে ড্রেস ও জুতাও সরবরাহ করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়বে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত হবে।’
নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। পরিকল্পনা রয়েছে, মেয়েদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং মেধাবীদের জন্য উপবৃত্তির।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক সংকটের কারণে জ্বালানি সমস্যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এ বিষয়ে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক থেকে দ্রুত সমস্যা সমাধানে কাজ করছে সরকার। জলাবদ্ধতা, বন্যা ও ফসলের ক্ষতি মোকাবিলায় নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সতর্ক রয়েছে সরকার।
তিনি আরও জানান, খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে, যা সেচ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থই সবার আগে।



