ঢাকায় লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত : সংসদে প্রতিমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম।
বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্টের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, ‘আজ যে রকম প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে কমে যাবে এটি।’
নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে কিছু কিছু জায়গায় হচ্ছে লোডশেডিং। এ বিষয়টি সহনীয় মাত্রায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনাক্রমে রাজধানী ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট প্রাথমিকভাবে, পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’
‘আমরা মনে করি, শহরের মানুষ আরামে থাকবে এবং গ্রামের মানুষ অর্থাৎ খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ সমাজ অর্থাৎ শহর এবং গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না, সেই বৈষম্যমুক্ত করার জন্য শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যাতে করে সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারেন কৃষকরা,’ বলছিলেন প্রতিমন্ত্রী।
বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা কাগজে-কলমে অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে সেটির গড়মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘গতকাল (বুধবার) বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।’
সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ব্যর্থ হচ্ছে কেন, এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে দেশে। বর্তমানে উৎপাদন হয় প্রতিদিন ১ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রতিদিন গড়ে আমদানি হয় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সামর্থ্য থাকলেও গ্যাসের আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ এর জন্য যে অবকাঠামো রয়েছে রাতারাতি সেই অবকাঠামোর সম্প্রসারণ অসম্ভব। এ অবকাঠামো বাড়ানোর জন্য সরকারের ১৮০ দিনের যে অগ্রাধিকার তালিকা রয়েছে তার মধ্যেই দেখা যাবে দৃশ্যমান অগ্রগতি।’



