রাষ্ট্রপতির ভাষণে বিরোধী দলের আচরণ ‘স্ববিরোধী’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ ঘিরে হট্টগোল হবে- এমন অনুমান ছিল বিশ্লেষকদের। সংসদ শুরুর আগের দিন, এমনকি অধিবেশন শুরুর আগে সকালেও বিরোধীদলীয় জোট থেকে চাওয়া হয়েছে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ রাষ্ট্রপতির অপসারণ।
এরপর অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরু হতেই তাকে লাল কার্ড দেখিয়ে ওয়াকআউট করেন বিরোধী জোটের এমপিরা। দিতে থাকেন নানা স্লোগান।
অধিবেশন শেষে সংসদ থেকে বের হয়ে বিরোধী দলের এই আচরণকে ‘স্ববিরোধিতা’ বলে প্রতিক্রিয়া জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সাংবদিকরা তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রীর জবাব, ‘এই প্রশ্নটা তাদের করা যায়। যে রাষ্ট্রপতির সাথে তারা আলাপ-আলোচনা করেছে ৫ আগস্টের বিকেল বেলা, সিক্সথ অফ আগস্ট এবং যে রাষ্ট্রপতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। তাদের দু-একজন তো এই সংসদেরও সদস্য হয়ে আসছেন। তো সেটা তাদের জিজ্ঞেস করা যায়, এই স্ববিরোধিতা কেন?’
তবে ওয়াকআউটকে তিনি দেখছেন স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে।
‘বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতে পারেন। তারা ওয়াকআউট করেছেন। এটা ব্যতিক্রম কোনো কিছু, ঘটনা নয়। তারা আবার আসবেন, আগামী দিনে যে সংসদ বসবে, সেদিন আবার আসবেন’- অভিমত বিএনপি নেতার।
সরকার কেমন সংসদ প্রত্যাশা করছে- জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদের জবাব, ‘অবশ্যই সংসদ অর্থবহ হবে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে। জাতীয় সব সমস্যার এবং সমস্ত ইস্যুর এখানে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা সমাধানে যাব ইনশা আল্লাহ। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখব। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, সেই ঐক্যকে আমরা ধরে রাখব এবং জাতীয় যে কোনো ইস্যুতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাব।’
এ দিনটির জন্য পুরো জাতি ১৭-১৮ বছর অপেক্ষা করেছে বলে মন্তব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে, গণতন্ত্র উত্তরণের পথ পরিষ্কার হয়েছে, আজ নতুনভাবে সেই নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ যেন জাতির সব ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে এমন একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখা হবে, যে চর্চার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক শক্তিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যাবে।’
সংসদের প্রথম দিন আজ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ শুরুর আগেই তৈরি হয় উত্তেজনা। প্রথমে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির প্রতিবাদ জানান। পরে বিরোধী দলের অন্য সদস্যরা নানা বক্তব্যসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে প্রায় পাঁচ মিনিট বিক্ষোভের পর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট (বর্জন) করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে তর্ক-বিতর্ক সেই চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে চলছে। বিএনপি বরাবরই সংবিধানের নিয়ম-রীতি মেনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। আর জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তখন থেকেই চেয়ে আসছে অপসারণ— রাষ্ট্রপতি নিজেই তুলেছেন এমন অভিযোগ।
এই রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নিয়েই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার, যার প্যানেলে ছিলেন অভ্যুত্থানের তরুণ তিন নেতা। তাদের একজন নাহিদ ইসলাম এখন নতুন সংসদের বিরোধী দলীয় এমপি।
আজ যখন তারা সংসদে ওয়াকআউট করছেন, তখন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের ছবি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া রাষ্ট্রপতির পাশে দাঁড়িয়ে শপথ নিচ্ছেন- এই ছবি দিয়ে তাদের বর্তমান আচরণের সমালোচনা করছেন অনেকে।

