প্রচ্ছদসর্বশেষইপেপার
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস, প্রতিকার কী

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস, প্রতিকার কী

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
  • বেটা
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
EN
  • বেটা
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • ইপেপার
  • EN

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সহযোগীদের খবর

টিকা কেন জরুরি, কখন কোনটি দিতে হবে

অনলাইন ডেস্কপ্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১৭
টিকা কেন জরুরি, কখন কোনটি দিতে হবে

ফাইল ছবি

একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় পৃথিবীর সঙ্গে তার লড়াই। আর এই লড়াইয়ে সুরক্ষা ঢালগুলোর একটি হলো টিকা।

শিশু জন্মের পরপর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে টিকা তার রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশে শিশুর জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়।
এই টিকাগুলো শিশুদের এমন সব মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে, যার কারণে একসময় লাখ লাখ শিশু প্রাণ হারাতো।

অর্থাৎ শিশুসহ একটি জনপদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

টিকাদানে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে, সরকারি টিকা এবং বেসরকারি টিকা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান ও নির্দেশনা অনুযায়ী এসব টিকা শিশুর যথাযথ বয়সে দিতে হয় যথাযথ ডোজ।

সরকারি টিকা

সরকারি টিকা হলো সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক জরুরি কিছু টিকা, যা শিশুকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে দেয় সুরক্ষা।

বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় বাংলাদেশের সব শিশুকে সরকার এসব টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এই টিকাগুলো শিশুর বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সরকারি টিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে—

বিসিজি (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গ্যাঁরাঁ): এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেয় শিশুকে।
পেন্টাভ্যালেন্ট: এটি মূলত ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (হিব) থেকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি সমন্বিত টিকা। ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যা গলা ও শ্বাসনালিতে সংক্রমণ করে। টিটেনাস সাধারণত কেটে যাওয়া, ঘা বা আঘাতের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এসব রোগ গুরুতর হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি লিভারের ভাইরাসজনিত রোগ। অন্যদিকে হিব এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শিশুদের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও রক্তকে মারাত্মক সংক্রমিত করে।

ওপিভি/আইপিভি: পোলিও মাইলাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। এই টিকা মুখে ড্রপ হিসেবে (ওপিভি) সেইসঙ্গে ইনজেকশনের মাধ্যমে (আইপিভি) দেয়া হয়। এই টিকা নিলে শিশু পঙ্গুত্ব থেকে পায় সুরক্ষা।

পিসিভি (নিউমোকক্কাস কনজুগেট ভ্যাকসিন): এই টিকা মূলত নিউমোকক্কাস নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, যা নিউমোনিয়া (ফুসফুসের সংক্রমণ), মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের সংক্রমণ) এবং রক্তে সংক্রমণ (সেপসিস) থেকে দেয় সুরক্ষা।

এমআর (মিজেলস রুবেলা): এটি এমন একটি টিকা, যা শিশুকে হাম ও রুবেলা- এই দুটি ভাইরাসজনিত রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। হাম হলে শিশুর জ্বর, ফুসকুড়ি ও কাশি হয়। জটিল হলে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণ হতে পারে, শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে। অন্যদিকে গর্ভবতী মায়ের রুবেলা হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু টিকা নেয়া থাকলে মায়ের এই ঝুঁকি থাকে না।

ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস)/টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া)/ টিটি (টিটেনাস টক্সয়েড)/ ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস): শরীরের কাটা বা আঘাত থেকে টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে এবং শ্বাসনালীর সংক্রমণ ডিপথেরিয়া থেকে রক্ষা পেতে দেয়া হয় এই টিকা।

র‍্যাবিস: কুকুর, বিড়াল, বানর ইত্যাদি আক্রান্ত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের মাধ্যমে ছড়ানো জলাতঙ্ক প্রতিকারে জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজের খরচেই টিকা কিনতে দেখা গিয়েছে।

এছাড়া ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের সরকারিভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়ে থাকে।
সরকারি এসব টিকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক বা টিকা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার সময় গ্রহণ করলে এর খরচ বহন করবে সরকার।

এর বাইরে নিজের সুবিধামতো সময়ে টিকা নিতে গেলে সার্ভিস চার্জ হিসেবে একটা খরচ দিতে হতে পারে।

বেসরকারি টিকা

বেসরকারি টিকা হলো সেই সব টিকা, যা দেয়া বাধ্যতামূলক নয়, এগুলো মূলত শিশুদের অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে এসব টিকা কিনে প্রয়োগ করতে হয়। বেসরকারি টিকার মধ্যে রয়েছে—

রোটাভাইরাস: ডায়রিয়া প্রতিরোধে এই টিকা দেয়া যেতে পারে।

ভারিসেলা: চিকেনপক্স বা জলবসন্ত থেকে সুরক্ষা পেতে ব্যবহার হয় এই টিকা। 

হেপাটাইটিস এ: এই টিকা শিশুকে জন্ডিস বা লিভার সংক্রমণ থেকে বাঁচানোর টিকা।

টিসিভি (টাইফয়েড কনজুগেট): শিশুকে টাইফয়েড জ্বরের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। টাইফয়েড মূলত বদহজম, খাবার বা নোংরা ছড়ায় পানির মাধ্যমে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা: এই টিকা শিশুকে সিজনাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস অর্থাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি, গলাব্যথা, মাথা ব্যথা থেকে রক্ষা করে। আবার যাদের শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশ জরুরি টিকা, এতে তার হাঁপানি ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

এমএমআর (মিজেলস মাম্পস রুবেলা): হাম, মাম্পস ও রুবেলা থেকে দেয় সুরক্ষা।

এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস): এই টিকা মেয়ে শিশু, কিশোরী ও নারীদের গর্ভাশয়ের ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

মেনিনোকোক্কাল: মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে দেয়া হয় এই টিকা।

ইটিইসি: কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে দেয়া হয় এই টিকা।

টিকা ভেদে বেসরকারি টিকার দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতি ডোজ আনুমানিক এক হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। হাসপাতাল ভেদে দাম পরিবর্তিত হয়।

কখন কোন টিকা দিতে হবে

শিশুর পূর্ণ সুরক্ষার জন্য অনেক পরিবার শুধু সরকারি টিকাগুলো দিয়ে থাকে আবার অনেকে সরকারি বেসরকারি দুই ধরনের টিকাই দেয়।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, সব টিকা কি নেওয়া জরুরি, নাকি সরকারি টিকাই যথেষ্ট?

‘সরকারি টিকা কিছু রোগ থেকে শিশুর জীবন রক্ষার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি আর বেসরকারি টিকা আরো অন্যান্য কিছু রোগের বিষয়ে অতিরিক্ত সুরক্ষা যোগ করে’—মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদ।
তবে টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে সময়সূচি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বেনজির আহমেদ।

জন্মের পর থেকে প্রথম ছয় মাস

সম্প্রসারিত টিকা কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, শিশুর জন্মের পর পর ছয় সপ্তাহের মধ্যে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সরকারি বিসিজির এক ডোজ টিকা নিতে হয়। এটার আর কোনো বাড়তি ডোজ নেই।

শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও ও পিসিভি এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি টিকার একটি করে মোট তিনটি ডোজ দেয়া হয়। পোলিওর ওপিভি দুফোঁটা করে মুখে এবং বাকি দুই ডোজ আইপিভি টিকা শিশুর উরুর মাংসপেশিতে দেয়া হয়।

এর চার সপ্তাহ পর অর্থাৎ শিশুর ১০ সপ্তাহ বয়সে তিনটি টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়। আরো চার সপ্তাহ পর শিশুর ১৪ সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট ও পোলিওর তৃতীয় ডোজ দেয়া হয়। ১৮তম সপ্তাহে দেয়া হয় পিসিভির তৃতীয় ডোজ।
মেনিনজাইটিস বা মস্তিষ্কের পর্দার প্রদাহ প্রতিরোধে শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ পরে বেসরকারি মেনিনজোকোক্কাল টিকা দেয়া যেতে পারে। এর তিন বছর পর পর একটি করে টিকা দিতে হবে।

শিশুর জন্মের ছয় সপ্তাহ থেকে ছয় মাসের মধ্যে বেসরকারি রোটা ভাইরাসের দুই ডোজ টিকা দেয়া যেতে পারে। দুটি ডোজের মাঝখানে ব্যবধান রাখতে হবে চার সপ্তাহ।

শিশুর ছয় মাস বয়সে বেসরকারি ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকার প্রথম ডোজ। এর চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ। তারপর প্রতি বছর ফ্লু এর মৌসুমের আগে এক ডোজ করে দেয়া যেতে পারে টিকা।

নয় মাস থেকে দুই বছর

শিশুর জন্মের নয় মাসের মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে সরকারি এমআর টিকা দিতে হয় সেইসঙ্গে পোলিওর চতুর্থ ডোজের বুস্টার টিকা নিতে হবে। এমআর টিকার বুস্টার ডোজ নিতে হয় ১৫ মাস বয়সে।

যদি সরকারি এমআর টিকা দেয়া না যায়, তাহলে শিশুর এক বছর বয়সে চাইলে বেসরকারি এমএমআর টিকার প্রথম ডোজ দেয়া যেতে পারে। এর চার থেকে ছয় বছর পর দিতে হবে দ্বিতীয় ডোজ। এমএমআর টিকা নিতে পারেন প্রাপ্ত বয়স্করাও।

শিশুর এক বছর বয়সের পর বেসরকারি হেপাটাইটিস এ টিকার প্রথম ডোজ এবং এর ছয় মাস পর নেয়া যেতে পারে দ্বিতীয় ডোজ টিকা।

শিশুর ১৫ মাস বয়সে ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে সরকারি টিটি টিকা এবং সরকারি এমআর টিকার বুস্টার ডোজ নিতে হয়। এই ডোজটি প্রথম টিকার কার্যকারিতা আরও বাড়ায়।

শিশুর এক থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে যেকোনো সময় জলবসন্ত প্রতিরোধে দুই ডোজ বেসরকারি ভারিসেলা টিকা নেয়া যেতে পারে। প্রথম ডোজ নেয়ার চার থেকে আট সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে। তবে শিশুর যদি ইতোমধ্যেই জলবসন্ত হয়ে যায় তাহলে টিকার দরকার নেই।

শিশুর ১৮ মাস বয়সে দেয়া হয় সরকারি ডিপিটি (ডিপথেরিয়া, পোলিও, টিটেনাস) বুস্টার ডোজ এবং সরকারি ওপিভি (পোলিও) বুস্টার ডোজ।

মূলত প্যান্টাভেলেন্ট ও পোলিওর তিন ডোজ নেওয়ার পরে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই দুটো দেয়া হয় বুস্টার ডোজ।

শিশুর দুই বছর বয়সের পর কলেরা ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে বেসরকারি ইটিইসি টিকার প্রথম ডোজ দেয়া যেতে পারে। এরপর এক সপ্তাহ অন্তর দ্বিতীয় ও দেয়া হয় তৃতীয় ডোজ টিকা।

শিশুর দুই বছর বয়সের পর বেসরকারি টাইফয়েডের প্রথম ডোজ টিকা। এরপর প্রতি তিন বছর পর পর একটি করে টিকা দিতে হয়।

পাঁচ থেকে ১৬ বছর

পাঁচ বছর বয়সে শিশু স্কুলে যাওয়ার আগে তাকে ডিটি (ডিপথেরিয়া টিটেনাস) টিকা দেয়া হয়ে থাকে। এই সময়ে শিশুর সামাজিক মেলামেশা বাড়ে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।

১০ বছর বয়সের পর মেয়ে শিশুদের তিন ডোজে বেসরকারি এইচপিভি টিকা দেয়া যেতে পারে। প্রথম ডোজের পর এক মাস পর দ্বিতীয় ডোজ, এরও ছয় মাস পর দেয়া হয় তৃতীয় ডোজ টিকা।

পরে ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোর কিশোরীদের সরকারি টিডি (টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া) টিকা দেয়া হয়। কিশোরীদের এই টিকা দেয়া হলে সে এবং তার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুরক্ষিত থাকতে পারে।

অন্যদিকে শিশুর বয়স ১৫ বছর হওয়ার পর এবং মা হওয়ার আগে পাঁচ ডোজ সরকারি টিটি টিকা নিতে হয়। প্রথম ডোজের ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ, এর ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ, এক বছর পর চতুর্থ ডোজ, আরো এক বছর পর পঞ্চম ডোজ টিকা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজিরের ভাষ্য, প্রতিটি টিকা সময়সূচি মেনে পূর্ণ ডোজ দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিছু টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে কমে আসতে পারে।এজন্য বুস্টার ডোজ প্রয়োজন হয়। বুস্টার ডোজ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে পুনরায় সক্রিয় বা শক্তিশালী করে।

ডোজ মিস হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ তৈরি হয় না, ফলে যেকোনো সময় ওই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই কোনো কারণে টিকা দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ পার হয়ে গেলে বিচলিত না হয়ে দ্রুত কাছের টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকাটি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বেনজির আহমেদ।

‘টিকা দেয়ার একটা সময়সীমা বেঁধে দেয়া আছে। এখানে জরুরি হলো কোনো টিকা সময়ের আগে দেয়া যাবে না। কিন্তু কোনো ডোজ দেয়ার সময় পেরিয়ে যায় সেক্ষেত্রে দেরিতে হলেও দেয়া যাবে’—বলছিলেন বেনজির আহমেদ।



আজ রবিবার বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত সানজানা চৌধুরীর টিকা নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

টিকা দেয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও প্রচলিত ভুল ধারণা

অনেক অভিভাবক এখনও টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি বা ভয় পোষণ করেন বিশেষ করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে। এসব নিয়ে বিভিন্ন ভুল ধারণা প্রচলিত আছে।

যেমন অনেকেই টিকা দিতে ভয় পান কারণ টিকা দিলে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো টিকা নেয়ার পর শিশুর হালকা জ্বর বা ব্যথা হতে পারে, শিশু ছটফট করে কান্নাকাটি করতে পারে, টিকা দেওয়ার স্থানে সামান্য ফুলে বা লাল হয়ে যেতে পারে। যা স্বাভাবিক এবং সাময়িক বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এসব লক্ষণ সাধারণত এক-দুই দিনের মধ্যে সেরে যায়। তবে অতিরিক্ত জ্বর বা খিঁচুনি হলে, শিশু শকে চলে গেলে, শরীরের কোন অঙ্গ অবশ হয়ে গেলে, টিকা দেয়ার স্থানে সংক্রমণ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আরেকটি ধারণা রয়েছে যে একসঙ্গে এতো টিকা দিলে ক্ষতি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর শরীর সময়সূচি মেনে সব টিকা সামলাতে সক্ষম।

অনেকেই মনে করেন সরকারি টিকাই যথেষ্ট, বাকি দরকার নেই। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, চাইলে যে কেউ যথাযথ সময়সূচি মেনে বেসরকারি টিকা নিয়ে কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

অনেকে আবার মনে করেন, আমার বাচ্চা বাসায় থাকে, টিকার দরকার নেই। তবে বাস্তবতা হলো সংক্রমণ শুধু বাইরে থেকে আসে না, পরিবার, অতিথি, এমনকি বাতাসেও ছড়াতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা আছে হার্ড ইমিউনিটি অর্থাৎ, একটি সমাজের বেশিরভাগ মানুষ টিকা নিলে পুরো সমাজই সুরক্ষিত থাকে। সেক্ষেত্রে শিশুর টিকাদান শুধু কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্ব।

কারণ একটি শিশুকে টিকা দেওয়া মানে শুধু তার নিজের সুরক্ষা নয়, এর মাধ্যমে একটি প্রজন্ম এবং সমাজ সুরক্ষিত থাকে। তাই একটি শিশুর টিকা নেওয়া মানে অন্যদেরও রক্ষা করা।

সরকারডাক্তারবিবিসি বাংলাটিকাবেসরকারি
    শেয়ার করুন:
    পশ্চিমবঙ্গজয়ী শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা

    পশ্চিমবঙ্গজয়ী শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:১৭

    লাখো কৃষকের মাথায় হাত, লোকসান প্রায় ৯০০ কোটি টাকা

    লাখো কৃষকের মাথায় হাত, লোকসান প্রায় ৯০০ কোটি টাকা

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৪৭

    মাঝখানের মানুষটির চিৎকার কেউ শোনে না

    মাঝখানের মানুষটির চিৎকার কেউ শোনে না

    ০৭ মে ২০২৬, ০১:০৬

    রাজনৈতিক পালাবদলে কতটা নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ?

    রাজনৈতিক পালাবদলে কতটা নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ?

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:১৯

    আশুলিয়ায় জিরানী ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি বেহাল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    আশুলিয়ায় জিরানী ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি বেহাল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০

    খাদ্য সংকটে পানির দরে গরু বিক্রি করছেন সুনামগঞ্জের হাওরপারের কৃষকরা

    খাদ্য সংকটে পানির দরে গরু বিক্রি করছেন সুনামগঞ্জের হাওরপারের কৃষকরা

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০৭

    নড়াইলে বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেলেন ১৪ তরুণ-তরুণী, আনন্দে চোখে জল

    নড়াইলে বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেলেন ১৪ তরুণ-তরুণী, আনন্দে চোখে জল

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:১২

    সাটুরিয়ায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে ঘুচল ১২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

    সাটুরিয়ায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে ঘুচল ১২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৫৭

    এবারও কি ঢাকা ডোবাবে পলিথিন

    এবারও কি ঢাকা ডোবাবে পলিথিন

    ০৬ মে ২০২৬, ১০:০১

    ‘ঝাল ঝাল শুঁটকি না থাকলে মন ভরে না’

    ‘ঝাল ঝাল শুঁটকি না থাকলে মন ভরে না’

    ০৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৪

    সাতক্ষীরার বদরতলা-ব্যাংদহা সড়ক এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের গন্তব্য

    সাতক্ষীরার বদরতলা-ব্যাংদহা সড়ক এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের গন্তব্য

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০৩

    বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে

    বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:১৫

    উন্নয়ন বরাদ্দে উচ্চাভিলাষ

    উন্নয়ন বরাদ্দে উচ্চাভিলাষ

    ০৭ মে ২০২৬, ০৯:০৩

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৫১

    হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু, গয়না খুলে পালালেন স্বামী

    হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু, গয়না খুলে পালালেন স্বামী

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:৪৬

    advertiseadvertise