প্রচ্ছদসর্বশেষইপেপার
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস, প্রতিকার কী

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস, প্রতিকার কী

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
  • বেটা
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
EN
  • বেটা
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • ইপেপার
  • EN

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সহযোগীদের খবর

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় কোন জেলায়, কেন

বিবিসি বাংলাপ্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৪২
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় কোন জেলায়, কেন

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে এক দশকে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য দিচ্ছে সরকারি সূত্রগুলো। দশ বছর আগে এটিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও প্রাণহানি থেমে নেই। এখনো প্রায় প্রতি বছরই বাংলাদেশে শতাধিক মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারাচ্ছেন।

বাংলাদেশে সাধারণত মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বজ্রঝড়-বজ্রপাত হয় । এ দুর্যোগ সবচেয়ে বেশি হয় দেশের উত্তর-পূর্ব দিকের অঞ্চল সিলেটে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে সিলেটেই।
সর্বশেষ গত ২৬শে এপ্রিল দেশের কয়েকটি জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এক দশকে মৃত্যু সাড়ে তিন হাজারের বেশি

পত্রপত্রিকা খুললেই বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর দেখা যায়। কিন্তু বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ঠিক কত, আগে তা হিসাব করা হতো না।

তবে ২০১৫ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়। তারপর থেকে অন্যান্য দুর্যোগে প্রাণহানির তথ্যের পাশাপাশি এই তথ্যও সংরক্ষণ করা হয়।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মাঝে বাংলাদেশে বজ্রপাতে মারা গেছে মোট তিন হাজার ৬৫৮ জন।

বজ্রপাতে মৃত্যুর সেই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত এক দশকে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠা-নামা করেছে এবং একটি সময় পর্যন্ত এর প্রবণতা ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

এর মাঝে ২০১৫ সালে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২৬ জন। পরের বছর ২০১৬ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯১ জনে। ২০১৭ সালে কিছুটা কমে ৩৮৮ জন হলেও ২০১৮ সালে আরও কমে ৩৫৯ জনে নেমে আসে।
এরপর ২০১৯ সালে আবার বৃদ্ধি পেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০১ জনে এবং ২০২০ সালে সর্বোচ্চ ৪২৭ জনে পৌঁছায়। অর্থাৎ এই সময়টিতে বজ্রপাতজনিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

তবে ২০২১ সাল থেকে ধীরে ধীরে বজ্রপাতে মৃত্যু কমার প্রবণতা দেখা যায়। ওই বছর ৩৬৩ জন, ২০২২ সালে ৩৩৭ জন এবং ২০২৩ সালে ৩২২ জনের মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালে এটি আরও কমে ২৭১ জনে নেমে আসে এবং ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়ায় ১৭৩ জনে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক এ প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, চলতি বছরেও এখন পর্যন্ত বজ্রপাতে ২৮ থেকে ৩০ জন মানুষ মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সামগ্রিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০ সালের পর থেকে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে।

এর পেছনে ‘২০১৯-২০২০ সাল থেকে বজ্রপাতের দুই- চার ঘণ্টা আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেওয়া আগাম সতর্কতা, সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ’ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন মি. মল্লিক।

তবে তিনি এটিও বলেন যে, পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কারণে এটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব না যে এখন বজ্রপাতে মারা যাওয়ার হার ২০১৫ সালের আগের সময়ের তুলনায় বেশি নাকি কম।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশের সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়। জেলার ভেতরে জামালগঞ্জ উপজেলাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।

গত এক দশকে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে এই উপজেলাতেই।

এর বাইরে নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, বরিশালের খেপুপাড়াসহ আরও কিছু এলাকায় তুলনামূলক বেশি বজ্রপাত হয়।

মূলত, ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়াগত বৈশিষ্ট্যের কারণে সিলেটে বজ্রপাত বেশি ঘটে।

সর্বোচ্চ মৃত্যু সিলেটে, কোন কোন অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ

এর ব্যাখ্যায় আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেছেন, ‘জলীয় বাষ্প সমৃদ্ধ এলাকার আশেপাশেই বজ্রপাত বেশি হয়। এক্ষেত্রে সিলেট অঞ্চলে বড় বড় হাওড় রয়েছে, যা থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প তৈরি হয়। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ বাতাস দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে সিলেট অঞ্চলে প্রবেশ করে। এই আর্দ্র বাতাস সিলেটের উত্তর-পূর্ব দিকের পাহাড়ের সঙ্গে সংঘর্ষে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দ্রুত উপরের দিকে উঠে যায়।’

এই উর্ধ্বগামী আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা হয়ে ঘনীভূত হলে মেঘ তৈরি হয়, বিশেষ করে কিউমুলোনিম্বাস বা বজ্রমেঘ। এই প্রক্রিয়াই বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।

এছাড়া, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক ও গরম বাতাসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষও বজ্রপাতের একটি বড় কারণ।

এই দুই ধরনের বাতাসের মিলনস্থল হিসেবে সিলেটসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দেশের কিছু উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি অঞ্চল এবং হিমালয়ের পাদদেশ ঘিরে যে আবহাওয়াগত ব্যবস্থা তৈরি হয়, তার প্রভাবও বাংলাদেশে পড়ে।

এসব অঞ্চল থেকে তৈরি হওয়া বজ্রমেঘ পশ্চিমবঙ্গ হয়ে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রবেশ করে এবং স্থানীয় জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিশে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে, হাওড়ের জলীয় বাষ্প, পাহাড়ের বাধা, এবং ভিন্ন ধরনের বায়ুপ্রবাহের সংঘর্ষ– এই তিনটি প্রধান কারণে সিলেট ও আশপাশের এলাকায় বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে বজ্রপাত দেশের প্রায় সব জেলাতেই প্রভাব ফেলেছে এবং আক্রান্ত জেলার সংখ্যা মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

২০১৫ সালে দেশের ৪৫টি ও ২০১৬ সালে ৫৭টি জেলায় বজ্রপাত হয়েছিলো। ২০১৭ সালে জেলার সংখ্যা বেড়ে ৬০টিতে দাঁড়ালেও ২০১৮ সালে তা কিছুটা কমে ৫০-এ নেমে আসে।
এর পরের বছর দেশের ৫৬টি জেলায় বজ্রপাতের প্রভাব দেখা গেছে এবং সে বছর চার শতাধিক নিহতের পাশাপাশি মোট ১০৮ জন নিহতও হয়েছে। আর ২০২০ সালে তো দেশের ৫৯টি জেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছিলো এবং আহত হয়েছিলো ৮৮ জন।

এছাড়া, ২০২১ সালে ৫৭টি জেলায় ১২৪ জন, ২০২২ সালে ৫৮টি জেলায় ৮৭ জন, ২০২৩ সালে ৫৬টি জেলায় ৬১ জন, ২০২৪ সালে ৬৪টি জেলায় ৫৩ জন আহত হয়েছিলো।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বজ্রপাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতি কমেনি, বরং কিছুটা বেড়েছে; তবে সাম্প্রতিক সময়ে আহতের সংখ্যা কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

বছরের কোন সময় বজ্রঝড়, বজ্রপাত বেশি হয়?

বাংলাদেশের ৩৮ শতাংশ বজ্রসহ ঝড় হয় মার্চ, এপ্রিল ও মে (বৈশাখ) মাসে হয়।

আর জুন, জুলাই, অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরে (বর্ষাকাল) হয় ৫১ শতাংশ।

কিন্তু ‘তাণ্ডব, ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি বেশি হয় বৈশাখ মাসের বজ্রসহ ঝড়ে। বর্ষাকালের চেয়ে বৈশাখ মাসের ঝড় ধ্বংসাত্মক, গুরুত্বপূর্ণ,’ বলছিলেন আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক।

বৈশাখ মাসে ঝড় রূদ্রমূর্তি ধারণ করে বলেই বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে স্থানীয়ভাবে একে কালবৈশাখী বলা হয়। কিন্তু পুস্তকের ভাষায় এটি বজ্রঝড়। অর্থাৎ, মার্চ-মে মাসের ঝড়কে কালবৈশাখী ঝড় বলা হলেও আর জুন-সেপ্টেম্বরে ঝড় হলে তা কালবৈশাখী না, বজ্রসহ ঝড়।

বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে সাধারণত শেষ বিকেলে এবং সন্ধ্যার দিকে কালবৈশাখী হয়। কিন্তু পূর্বাঞ্চলে সন্ধ্যার পরে হয়। তবে কালবৈশাখী কোথায়, কতক্ষণ হবে সেটি আগে থেকেই জানিয়ে দেয়ার মতো বৈজ্ঞানিক কোন উপায় এখনো নেই। আবার এটি হঠাৎ করে ধেয়েও আসে না।

মূলত, ব্যাপক গরমে ঈশান কোণে জমা হওয়া কালোমেঘ বা বজ্রমেঘ এ ঝড়ের আভাস দেয়।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ এর আগে বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, এটি তৈরি হয় পাঁচ বা ছয় ঘণ্টা আগে, আর শতভাগ বোঝা যায় দুই বা তিন ঘণ্টা আগে।

‘অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হলে ঢাকায় আসতে যতক্ষণ লাগে সেটি বলে দেয়া যায়। আর কোথাও কোথাও অন্য লক্ষণ দেখে বিকালের ঝড় সম্পর্কে সকালে কিছুটা বলা সম্ভব হতে পারে।’

কালবৈশাখী ঝড়ের স্থায়িত্বকাল খুব বেশি হয় না। তবে কখনো কখনো এ ঝড় এক ঘণ্টারও বেশি স্থায়ী হতে দেখা গেছে। তবে এই ঝড় হয় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে।

আবহাওয়াবিদ মি. মল্লিক জানান, বজ্রঝড়ের সময় ঊর্ধ্বাকাশে ২৭ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি হয়। যেখানে সূর্যের তাপমাত্রাই থাকে ছয় হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস।

‘এই তাপমাত্রা যে এলাকার মেঘমালায় তৈরি হয়, সেই মেঘমালায় তখন বিস্ফোরণ হয়। অর্থাৎ, মেঘের সম্প্রসারণ হয়। সেই সম্প্রসারণ এত তাড়াতাড়ি হয় যে তখন বজ্রধ্বনি তৈরি হয়। বজ্রপাত ও বজ্রধ্বনি একই সময়ে সংঘটিত হয়। শব্দের গতিবেগ কম বলে আলো আগে দেখি।’

অর্থাৎ, বজ্রসহ ঝড়ের সাথে মেঘের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে এবং বজ্রসহ ঝড়ের সময় আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি, ভারী বৃষ্টি, ঝড়ো বা দমকা হাওয়া হতে পারে।

এ নিয়ে মি. মল্লিক বলছিলেন, বজ্রসহ ঝড়ের সময় মেঘ উপরের দিকে উঠে। ভূ-পৃষ্ঠের তিন কিলোমিটার উপর থেকে আরো ১০-১২ কিলোমিটার পর্যন্ত থাকে। কোনো কোনো বজ্রমেঘ যদি তীব্র আকার ধারণ করে, তখন তা ১৮-২০ কিলোমিটার পর্যন্তও উঠতে পারে।

এই মেঘের ভেতরে থাকে অসংখ্য ছোট ছোট জলকণা ও বরফকণা। মেঘের একটি অংশ থাকে হিমাংক রেখার উপরে, যেখানে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। মেঘ যত উপরের দিকে যায়, কণাগুলো একে অপরের সাথে মিলে ধীরে ধীরে জমাট বাঁধে ও বড় হতে থাকে। যখন কণাগুলো ভারী হয়ে যায়, তখন সেগুলো নিচের দিকে নামতে শুরু করে।

এগুলো নিচে নামতে নামতে উষ্ণ স্তরে এলে গলতে শুরু করে। যদি নিচের বাতাস খুব গরম হয়, তাহলে সেগুলো পুরোপুরি গলে বাতাসেই মিলিয়ে যেতে পারে, আর যদি পুরোপুরি না গলে, তাহলে শিলা বা বৃষ্টির ফোঁটা হিসেবে মাটিতে পড়ে।

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে হলে কী করতে হবে?

বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো খোলা জায়গায় মানুষের উপস্থিতি। কৃষক, জেলে বা মাঠে কাজ করা মানুষরা ঝড়ের সময়ও বাইরে থাকেন, ফলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এছাড়া, অনেক এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং বজ্রপাত সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার ঘাটতিও বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।

বজ্রপাতের সময় কী করা উচিৎ, তা নিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা আছে।

সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো ঘরের ভেতর থাকা। খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া বিপজ্জনক।

অনেক ক্ষেত্রে বজ্রপাত কাছাকাছি আঘাত করলেও বৈদ্যুতিক প্রবাহ মাটির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা আশপাশে থাকা মানুষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই, অতি জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যেতে হলে রাবারের জুতা পরে যেতে হবে।

বজ্রপাতের সময় ধানক্ষেত বা খোলামাঠে যদি থাকেন তাহলে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে এবং কানে আঙুল দিয়ে নিচু হয়ে বসে পড়তে হবে।

বজ্রপাতের আশংকা দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব দালান বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে। ভবনের ছাদে বা উঁচু ভূমিতে যাওয়া উচিত হবে না।

খালি জায়গায় যদি উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ধাতব পদার্থ বা মোবাইল টাওয়ার থাকে, তার কাছাকাছি থাকা যাবে না।

বজ্রপাতের সময় ছাউনিবিহীন নৌকায় মাছ ধরতে না যাওয়াই উচিৎ হবে। সমুদ্রে বা নদীতে থাকলে মাছ ধরা বন্ধ রেখে নৌকার ছাউনির নিচে আশ্রয় নিতে হবে।

যদি কেউ গাড়ির ভেতরে থাকে, তবে গাড়ির ধাতব অংশের সাথে শরীরের সংযোগ রাখা যাবে না।

আর বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে না, তাই দ্রুত তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

মৃত্যুবজ্রপাত
    শেয়ার করুন:
    পশ্চিমবঙ্গজয়ী শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা

    পশ্চিমবঙ্গজয়ী শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:১৭

    লাখো কৃষকের মাথায় হাত, লোকসান প্রায় ৯০০ কোটি টাকা

    লাখো কৃষকের মাথায় হাত, লোকসান প্রায় ৯০০ কোটি টাকা

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৪৭

    মাঝখানের মানুষটির চিৎকার কেউ শোনে না

    মাঝখানের মানুষটির চিৎকার কেউ শোনে না

    ০৭ মে ২০২৬, ০১:০৬

    রাজনৈতিক পালাবদলে কতটা নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ?

    রাজনৈতিক পালাবদলে কতটা নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ?

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:১৯

    আশুলিয়ায় জিরানী ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি বেহাল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    আশুলিয়ায় জিরানী ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি বেহাল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০

    খাদ্য সংকটে পানির দরে গরু বিক্রি করছেন সুনামগঞ্জের হাওরপারের কৃষকরা

    খাদ্য সংকটে পানির দরে গরু বিক্রি করছেন সুনামগঞ্জের হাওরপারের কৃষকরা

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০৭

    নড়াইলে বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেলেন ১৪ তরুণ-তরুণী, আনন্দে চোখে জল

    নড়াইলে বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেলেন ১৪ তরুণ-তরুণী, আনন্দে চোখে জল

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:১২

    সাটুরিয়ায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে ঘুচল ১২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

    সাটুরিয়ায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে ঘুচল ১২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৫৭

    এবারও কি ঢাকা ডোবাবে পলিথিন

    এবারও কি ঢাকা ডোবাবে পলিথিন

    ০৬ মে ২০২৬, ১০:০১

    ‘ঝাল ঝাল শুঁটকি না থাকলে মন ভরে না’

    ‘ঝাল ঝাল শুঁটকি না থাকলে মন ভরে না’

    ০৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৪

    সাতক্ষীরার বদরতলা-ব্যাংদহা সড়ক এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের গন্তব্য

    সাতক্ষীরার বদরতলা-ব্যাংদহা সড়ক এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের গন্তব্য

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০৩

    বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে

    বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:১৫

    উন্নয়ন বরাদ্দে উচ্চাভিলাষ

    উন্নয়ন বরাদ্দে উচ্চাভিলাষ

    ০৭ মে ২০২৬, ০৯:০৩

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৫১

    হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু, গয়না খুলে পালালেন স্বামী

    হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু, গয়না খুলে পালালেন স্বামী

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:৪৬

    advertiseadvertise