‘এক যুগে বাংলাদেশকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে ভারত’

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশকে গত এক যুগে ভারত সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
শুক্রবার ভারতের লোকসভায় তারকাচিহ্নবিহীন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য দেন।
২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভারত বাংলাদেশকে যেসব সহায়তা দিয়েছে, তার বিবরণ জানতে চান লোকসভার সদস্য টি আর বালু।
লিখিত উত্তরে প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি হল প্রতিবেশীগত এবং জনগণকেন্দ্রিক।
সেই অনুযায়ী বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী প্রকল্পে লাইন অব ক্রেডিট এবং প্রকল্পভিত্তিক অনুদানের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ভারত। পাশাপাশি জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ত্রাণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচিতে সহায়তা দিচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশকে মোট ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের দুটি বড় লাইন অব ক্রেডিট সহায়তা দিয়েছে ভারত।
২০১৪ থেকে বর্তমান পর্যন্ত বছরওয়ারি আর্থিক সহায়তার বিবরণ তুলে ধরেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গত বছরের শুরুতে ভারতের বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য তৃতীয় কোনো দেশে ট্রান্সশিপমেন্টের সুবিধা বাতিল করে দেয় নয়া দিল্লি।
সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকার পুনর্বিবেচনা করছে কি না এবং যদি করে থাকে, তাহলে সেই বিষয়ে জানতে চান তামিলনাডুর শ্রীপেরুম্বুদুর আসনের লোকসভার প্রতিনিধি টি আর বালু।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, এর আগে যখন এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তখন ভারতের বন্দরগুলোতে নিজেদের (ভারতের) রপ্তানির চাইতে বাংলাদেশি রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।
নীতি পরিবর্তন প্রশ্নে প্রাসঙ্গিক সব বিষয় বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
লোকসভা সদস্য টি আর বালু প্রশ্ন রাখেন, এটি কি সত্য—ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রতি তিক্ত হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তাহলে তার কারণ কী?
জবাবে প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে।
‘ভারত ধারাবাহিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করে আসছে এবং দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় উচ্চপর্যায়ের আদান-প্রদান ও বৈঠক অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।’

