প্রচ্ছদসর্বশেষইপেপার
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস, প্রতিকার কী

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হান্টাভাইরাস, প্রতিকার কী

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
আগামীর সময়
  • বেটা
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
EN
  • বেটা
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • চট্টগ্রাম
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • ইপেপার
  • EN

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় সহযোগীদের খবর

ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নারী নেত্রী মমতার পতন, এরপরে কী?

বিবিসি বাংলাপ্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১২:২০
ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী নারী নেত্রী মমতার পতন, এরপরে কী?

জে জয়ললিতা, কুমারী মায়াবতী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

একসময় ভারতীয় রাজনীতির মঞ্চে যে তিনজন ডাকসাইটে নারী নেত্রীর নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হতো তারা হলেন- জে জয়ললিতা, কুমারী মায়াবতী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পালাবদলের সূত্র ধরে এই সেই ত্রয়ীর রাজনৈতিক প্রভাব আজ আবার আলোচনার কেন্দ্রে।

বিরোধী নেত্রী হিসেবে ‘লড়াকু’ ইমেজ সামনে রেখে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা। তার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু চলতি নির্বাচনের রায়ে সেই ধারাবাহিকতায় ‘ছন্দপতন’ ঘটেছে।

বিজেপি জিতেছে ২০৭টি ও তৃণমূলের ঝুলিতে ৮০টি আসন। বিশেষত ‘ঘরের মাঠ’ ভবানীপুর কেন্দ্রে একদা তারই ঘনিষ্ঠ এবং অধুনা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পরাজয় একাধিক জল্পনাকে উসকে দিয়েছে। কিন্তু তার দলের এই ভরাডুবি, কেন ভবানীপুরে নিজের কেন্দ্রেই হারলেন তিনি এবং যে ‘ক্যারিশমার’ জন্য পরিচিত, সেটাই বা কেন কাজ করল না, সে নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে।

প্রশ্ন উঠেছে, জয়ললিতার মৃত্যু এবং মায়াবতীর ‘প্রভাব’ ক্রমেই কমে আসার পর মমতা যে রাজনৈতিক অধ্যায়কে কার্যত ‘একাই’ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, সেখানে কি ছেদ পড়বে? নাকি রাজনীতির ময়দানে প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেবেন তিনি।

মমতা অবশ্য এই ফল মানতে নারাজ। সে কথা তিনি মঙ্গলবার আরও একবার স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি হারিনি। অফিসিয়ালি ওরা নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে জিতেছে, কিন্তু আমি বলছি মোরালি আমরা জিতেছি।’

‘আমি ইস্তফা দেব না।’

আম্মা-বহেনজি-দিদি

ভারতীয় রাজনীতির আঙিনায় নারী নেতৃত্বরা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অংশ ছিলেন, তা সে দেশের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হোক বা স্বাধীনতা আন্দোলনে শামিল সুচেতা কৃপালনী, যিনি পরে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছিলেন।

ইন্দিরা গান্ধী মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও খাদ্য সংকটের মতো সমস্যা এবং বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েও বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার শাসনকালে চীনের সঙ্গে সংঘাত, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ এবং বিতর্কিত জরুরি অবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। প্রতিকূলতার মধ্যেও শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক দক্ষতা ও দৃঢ় সিদ্ধান্তগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন সুচেতা কৃপালনী। শ্রমিক আন্দোলন ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান তাকে একজন প্রভাবশালী ও সক্ষম রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।

ভারতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ নারী ব্যক্তিত্বদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এখন পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রপতি এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদে একাধিক নারীকে দেখা গেছে; কিন্তু এই প্রসঙ্গে বলতে গেলে যে তিনজনের কথা না বললেই নয়। তারা হলেন, জে জয়ললিতা, কুমারী মায়াবতী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভারতের আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তারা। ভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে উঠে এসে নিজের রাজ্যে শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে তুলেছিলেন। আঞ্চলিক স্তরে বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছিলেন, তেমনই দাপুটে নেত্রী হিসেবে জাতীয় স্তরেও পরিচিতি গড়েছেন।

প্রাথমিকভাবে জয়ললিতার সফর শুরু হয়েছিল রাজনীতি থেকে বহু দূরে। অল্প বয়সে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের নায়িকা ছিলেন তিনি। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারও কম ‘ক্যারিশমাটিক’ ছিল না। চারবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি।

একাধারে যেমন কঠোর প্রশাসক ছিলেন, তেমনই জননেত্রীর ভূমিকাও পালন করেছেন। সাধারণ মানুষের কাছে আম্মা নামে পরিচিত ছিলেন তিনি। নেতৃত্ব এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প তাকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছিল।

তার কর্মজীবনে চড়াই-উতরাইও প্রত্যক্ষ করেছেন। কার্যকালে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তার ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে। ২০১৬ সালে মৃত্যু হয় জয়ললিতার।

অন্যদিকে, ভারতে দলিত রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ কুুমারী মায়াবতীও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সাধারণ মানুষের কাছে 'বহেনজি' নামেই পরিচিত ছিলেন।

রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন অল্প বয়সে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও, যাকে ‘গণতন্ত্রের মিরাকল’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, সেই মায়াবতী চারবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। ২০০১ সালে এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময়, বহুজন সমাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কাসিরাম মায়াবতীকে নিজের উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেন।

মায়াবতীর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার ভোটব্যাংক এবং পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি।

কার্যকালে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৩ সালে আকাশ আনন্দকে তার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেন।

তবে ভারতীয় জনতা পার্টি নিয়ে মন্তব্যের জেরে তাকে এর পরপরই বরখাস্ত করা হয় । বিএসপি-র গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দলত্যাগ এবং নির্বাচনের ফল খারাপ হওয়ার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তার দলের প্রভাব কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে ‘রাজনৈতিক গুরুত্ব’ হারাচ্ছে তার দল।

জনপ্রিয়তা এবং ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বের দিক থেকে একই সারিতে রাখা হয় মমতাকেও।


জয়ললিতা এবং মায়াবতীর মতোই দাপুটে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তিনি। জনসাধারণের কাছে ‘দিদি’ নামেই পরিচিত। তবে মায়াবতী ও জয়ললিতার সঙ্গে তার একদিকে যেমন মিল রয়েছে তেমন অমিলও আছে।

মিল ও অমিল

জয়ললিতা, মায়াবতী এবং মমতা নিজ নিজ দলকে ব্যক্তিনির্ভর শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। তারাই ক্রমে দলের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন।

পুরুষ প্রধান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। জনমুখী প্রকল্প, শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা এবং তৃণমূল স্তরে সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন।

তবে জয়ললিতা ও মায়াবতীকে রাজনীতিতে এনেছিলেন এমজি রামচন্দ্রন ও কাসিরাম। মমতার সে অর্থে কোনো ‘গড ফাদার’ ছিল না। মায়াবতীর রাজনীতি মূলত কাস্ট-ভিত্তিক, জয়ললিতার রাজনীতির নেপথ্যে ছিল তার ক্যারিশমা ও জনকল্যাণমূলক নীতি।

মমতার রাজনৈতিক সাফল্য আবার আন্দোলন এবং পপুলিস্ট ওয়েলফেয়ারের রাজনীতির ওপর ভর দিয়ে।

সেই মমতাই এবার নির্বাচনে হেরেছেন।

এ প্রসঙ্গে ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. উমেশ কুমার বলেছেন, ‘জে জয়ললিতা, মায়াবতী এবং মমতার নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে ভারতীয় রাজনীতির অর্থ ও অনুশীলনকে বদলেছে। শুধু নারী নেত্রী হিসেবেই নয়, সংগঠনকে মজবুত করা, নির্বাচনী সংহতি বজায় রাখা এবং যেভাবে তারা নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন, তা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।’

‘টেকসই রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে, প্রতিষ্ঠিত বিরোধীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারা ভারতীয় রাজনীতির ঐতিহাসিকভাবে পুরুষশাসিত প্রকৃতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।’

তবে এই দুই ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মমতার অমিলও রয়েছে। তার লড়াকু মনোভাব, তৃণমূল স্তরে সংযোগ এবং বাড়ির মেয়ের ইমেজ একসময় সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দপতনও ঘটেছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ও পৌরসভায় নিয়োগে দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতিসহ তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তার দলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতিরও অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

পাশাপাশি রাজ্যে একাধিক নারী নির্যাতনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

একে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ‘ক্ষোভ’ও দেখা গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অনেক ফ্যাক্টর কাজ করেছে এই ভোটে।

মমতার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কোনদিকে?

মমতার এই পরাজয়, তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবে কি না, সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কলকাতার ‘সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস’-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মইদুল ইসলাম বলেছেন, ‘নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার এই পরাজয় অবশ্যই রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক অতীতে আমরা ন্যাশনাল পার্টিগুলোর মধ্যে শীলা দীক্ষিত, বসুন্ধরা রাজের মতো মুখ্যমন্ত্রীদের দেখেছি।’

‘কিন্তু আঞ্চলিক স্তরে ক্ষমতাশালী নেত্রী হিসেবে জয়ললিতা, মায়াবতী এবং মমতাকেই ধরা হয়েছে। এদের মধ্যে জয়ললিতার মৃত্যু হয়েছে। নির্বাচনে হারের সম্মুখীন হওয়ার পর মায়াবতীর পুনরুত্থান হয়নি। মমতার ক্ষেত্রে কী হয় সেটাই দেখার’— তিনি বলেন।

এই প্রসঙ্গে একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়ে কথা বলেছেন দিল্লির পলিটিক্যাল ইকোনমিস্ট ড. রোহিত জ্যোতিষ। তার কথায়, ‘আমরা যদি মমতাকে জয়ললিতা ও মায়াবতীর সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে বলা দরকার এরা অত্যন্ত কেন্দ্রীভূত আঞ্চলিক নেতৃত্বের অংশ ছিলেন, যেখানে তাদের কর্তৃত্ব গড়ে উঠেছিল দলের সংগঠন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেটওয়ার্কের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে।’

‘মমতার ক্ষেত্রে যা বদলেছে, তা হলো তিনি যে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন তার কাঠামো। ঐতিহাসিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি মূলত স্থানীয় নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যেগুলো স্টেট রিসোর্সের ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ও বণ্টনের বিষয়ে মধ্যস্থতা করত। এই নেটওয়ার্কগুলো যতদিন স্থিতিশীল থেকেছে, ততদিন তিনি বা তার আগের বামপন্থী নেতারা তাদের দৃঢ় রাজনৈতিক আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।’

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সমীকরণে বদল এসেছে।

ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ড. জ্যোতিষ বলেছেন, ‘এখন আমরা সেই ভারসাম্যের একধরনের বিচ্যুতি দেখছি। এখন আঞ্চলিক রাজনীতিতে জাতীয় স্তরে সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বীর উত্থান ঘটেছে, যা এই প্রতিযোগিতাকে অনেক বেশি উন্মুক্ত ও তীব্র করে তুলেছে। এটা তামিলনাড়ুতে জয়ললিতা যে বিরোধীদলের মুখোমুখি হয়েছিলেন তার থেকে অনেকটাই আলাদা। মায়াবতীর ক্ষেত্রে আবার বিরোধিতা সর্বদাই স্থিতিশীল স্থানীয় জোটকে কেন্দ্র করে দেখা গেছে।’

‘আমার মনে হয় মমতার এই পরাজয় তার ব্যক্তিগত পতন নয়। আমার মনে হয় সেন্ট্রালাইজড লোকাল লিডারশিপকে এখন আরও অনেক বেশি পরিমাণে প্রতিযোগিতামূলক রাজনৈতিক পরিবেশের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ড. কুমার বলেছেন, ‘বর্তমান ফল উল্লেখযোগ্যভাবে কাঠামোগত এবং রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতাকেই দর্শায়। গভীর সরকারবিরোধী মনোভাব, মমতার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালে ভোটার তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার মতো বিষয়গুলো নির্বাচনী পরিবেশকে রূপ দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’

‘তা ছাড়া বিজেপি তাদের কৌশল পুনর্বিন্যাস করেছে। তারা স্থানীয়স্তরে প্রচার, নির্বাচনী এলাকা স্তরের বিষয়গুলোতে আরও বেশি মনোযোগ দিয়েছে এবং শক্তিশালী বুথ স্তরের ব্যবস্থাপনার দিকে ঝুঁকেছে, যা সম্মিলিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ে ভূমিকা রেখেছে।’

বিধানসভা নির্বাচনের ফলে মমতার ক্যারিয়ারে ইতি হবে কি না, এই প্রসঙ্গে অধ্যাপক মইদুল ইসলাম বলেছেন, ‘এর আগে ২০০৪-০৬ সালে সেটব্যাকের পর অনেকেই মনে করেছিলেন তার পলিটিক্যাল অবিচ্যুয়ারি লেখার সময় হয়েছে। উনি আর ফিরবেন না। কিন্তু ২০০৬ সালের পর থেকে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে আন্দোলনের হাত ধরে আবার তার রাজনৈতিক পুনরুত্থান হয়।’

‘সেই মমতাই আবার ২০২৬ সালে হারলেন। তার কাছে এখন অবকাশ রয়েছে, সরকার চালাতে হচ্ছে না। এই সময়কে তিনি কীভাবে ব্যবহার করবেন, সাংগঠনিক ভিতকে আবার পোক্ত করবেন, নাকি রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন, না আবার ঘুরে দাঁড়াবেন সেটা দেখার। তবে উনি লড়াই করে বারবার ফেরত এসেছেন কাজেই কী হয় সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে’, তিনি বলেছেন।

একই মত পোষণ করেন ড. রোহিত জ্যোতিষ, ‘জয়ললিতা, মায়াবতীর সঙ্গে তুলনা করলে আমার মনে হয় না মমতার এই পতন পার্মান্যান্ট। এখনই তার ক্যারিয়ারে ইতি হবে ভাবারও কারণ নেই।’

মমতাও অবশ্য হার মানছেন না বলে জানিয়েছেন। এই ফল না মেনে তিনি বলেছেন, ‘উই উইল ফাইট ইট আউট।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়জে জয়ললিতাকুমারী মায়াবতী
    শেয়ার করুন:
    পশ্চিমবঙ্গজয়ী শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা

    পশ্চিমবঙ্গজয়ী শুভেন্দু অধিকারীর পিএসকে গুলি করে হত্যা

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:১৭

    লাখো কৃষকের মাথায় হাত, লোকসান প্রায় ৯০০ কোটি টাকা

    লাখো কৃষকের মাথায় হাত, লোকসান প্রায় ৯০০ কোটি টাকা

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৪৭

    মাঝখানের মানুষটির চিৎকার কেউ শোনে না

    মাঝখানের মানুষটির চিৎকার কেউ শোনে না

    ০৭ মে ২০২৬, ০১:০৬

    রাজনৈতিক পালাবদলে কতটা নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ?

    রাজনৈতিক পালাবদলে কতটা নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ?

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:১৯

    আশুলিয়ায় জিরানী ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি বেহাল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    আশুলিয়ায় জিরানী ফুটওভার ব্রিজের সিঁড়ি বেহাল, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০

    খাদ্য সংকটে পানির দরে গরু বিক্রি করছেন সুনামগঞ্জের হাওরপারের কৃষকরা

    খাদ্য সংকটে পানির দরে গরু বিক্রি করছেন সুনামগঞ্জের হাওরপারের কৃষকরা

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০৭

    নড়াইলে বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেলেন ১৪ তরুণ-তরুণী, আনন্দে চোখে জল

    নড়াইলে বিনা পয়সায় পুলিশে চাকরি পেলেন ১৪ তরুণ-তরুণী, আনন্দে চোখে জল

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:১২

    সাটুরিয়ায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে ঘুচল ১২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

    সাটুরিয়ায় গ্রামবাসীর অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে ঘুচল ১২ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৫৭

    এবারও কি ঢাকা ডোবাবে পলিথিন

    এবারও কি ঢাকা ডোবাবে পলিথিন

    ০৬ মে ২০২৬, ১০:০১

    ‘ঝাল ঝাল শুঁটকি না থাকলে মন ভরে না’

    ‘ঝাল ঝাল শুঁটকি না থাকলে মন ভরে না’

    ০৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৪

    সাতক্ষীরার বদরতলা-ব্যাংদহা সড়ক এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের গন্তব্য

    সাতক্ষীরার বদরতলা-ব্যাংদহা সড়ক এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের গন্তব্য

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:০৩

    বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে

    বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:১৫

    উন্নয়ন বরাদ্দে উচ্চাভিলাষ

    উন্নয়ন বরাদ্দে উচ্চাভিলাষ

    ০৭ মে ২০২৬, ০৯:০৩

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল, ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

    ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৫১

    হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু, গয়না খুলে পালালেন স্বামী

    হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর মৃত্যু, গয়না খুলে পালালেন স্বামী

    ০৭ মে ২০২৬, ০০:৪৬

    advertiseadvertise